“কি রে রোহিঙ্গা, কি খবর” ও করোনা মহামারী

Rohinga
Share This:

“কি রে রোহিঙ্গা, কি খবর”- কিছুদিন আগেও খুব পপুলার একটা ডায়ালগ ছিলো এদেশে। বলতে দ্বিধা নেই এই ডায়ালগদাতাদের অধিকাংশই রিক্সাওয়ালা, শ্রমিক, বাসের হেল্পার, ড্রাইভার, দিনমজুর শ্রেণির লোকজন। এদের সাথে ছিল কিছু বিবেকবিকৃত, মগজবিক্রিত কিবোর্ড যোদ্ধা। রোহিঙ্গা শব্দটিকে রীতিমতো গালি বানিয়ে ফেলেছিলো তারা। রোহিঙ্গারা এদেশে উন্নত জীবনের আশায় আসেনি। অসভ্য বর্বর বার্মিজ সেনাবাহিনী ও জঙ্গি বুদ্ধিস্টদের হাত থেকে প্রাণ বাচাতে নিতান্ত মাথাগোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য তাদের এদেশে আসা। তাদের নিদারুণ জীবনযন্ত্রণায় সমব্যাথি হয়ে দেশের বিবেকবান জনগোষ্ঠি যখন সাধ্যমতো তাদের পাশে দাড়িয়েছিলো, তখনই একটা শ্রেণির মকারী অন্তঃপীড়ার কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল।

সেসময় টেকনাফ, কক্সবাজারে বেশ কয়েকবার যাবার সুযোগ হয়েছিল ত্রাণ নিয়ে। কাজ করেছি শাহপরির দ্বীপের ফার্স্টহ্যান্ড রেসকিউ টিমের সাথে, যারা নাফ নদী পেরিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে পৌছে দিচ্ছিল। ত্রাণের জন্য রোহিঙ্গাদের রাস্তায় বসে থাকা, ত্রাণের গাড়ি আসলে হুটোপুটি, লুটপাট খুব পরিচিত দৃশ্য ছিল তখন। মাত্র ২-৩ বছরের ব্যবধানে খোদ ঢাকা শহরে বসে এই দৃশ্য দেখতে হবে তা ছিল দূরতম কল্পনারও অতীত। সেসময় রোহিঙ্গাদের নিয়ে মকারি করা জনগোষ্ঠীই এখন ভিকটিম। জানিনা আরও কতদিন এ দৃশ্য দেখতে হয়।

তবে এপার্ট ফ্রম মকারি রোহিঙ্গাদের প্রতি এদেশের মানুষ যে সহমর্মিতা, সহানুভূতি দেখিয়েছে এবং যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো তা ছিল এককথায় অভূতপূর্ব। নিজের ভালো আমলের উছিলা দিয়ে নাকি দু’আ করা যায়। “হে আল্লাহ, সেসময় রোহিঙ্গারা যেরকম অসহায় ছিল, আজ আমরা সেরকম অসহায়, তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, আজকের এই মহাদুর্যোগের সময় দয়া করে আপনি আমাদের পাশে থাকুন, আপনি আমাদের রক্ষা করুন। আপনি পরম রক্ষাকারী। এ জনপদে আপনার শোকরগুজারি জনগণের সংখ্যা অনেক, দয়া করে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না মা’বুদ। আমাদেরকে আপনার রহমতের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দিন। সেই সাথে মানুষের অসহায়ত্ব, দুর্বলতা নিয়ে যাতে হাসিতামাশা কখনও না করি সেই শিক্ষা আমাদের দিন। আমিন, ইয়া রব্ব!”

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *