রিটেইল এক্সপোর্ট

Export
Share This:

ব্যাগের পাশাপাশি যখন আমরা টি-শার্টের ব্রান্ড জোশ গিয়ার লঞ্চ করি, তখন মূলত দুটো কারণ ছিলো এর পেছনে। প্রথমত, ব্যাগের প্রিন্টিং আর টি-শার্টের প্রিন্টিং সলুশন ছিলো সেম- স্ক্রিন প্রিন্ট। স্ক্রিনপ্রিন্টকে ধরা হয়, ফ্যাব্রিক প্রিন্টের জন্য সেরা সলুশন হিসেবে। ব্যাগে প্রিন্ট করতে করতে আমরা সেই স্ক্রিন প্রিন্টে বেশ দক্ষতা অর্জন করি, সেটারই প্রতিফলন টি-শার্টেও ফেলে দেখি রেজাল্ট মা শা আল্লাহ খুব ভালো আসছে। ব্যস, আলোর মুখ দেখে জোশ গিয়ার।

দ্বিতীয় কারণ ছিলো, এক্সপোর্ট। ভেবে দেখলাম এই একটা প্রোডাক্টেই আমাদের এফিসিয়েন্সি এবং প্রাইস কম্পিটিটিভনেস সবচেয়ে বেশি। এতো অল্প টাকায় এতো ভালো প্রোডাক্ট বিশ্বের আর কারও পক্ষে বানানো সম্ভব না। এই প্রোডাক্টটা যদি আমরা রিটেইল প্রাইসে ইউরোপ আমেরিকায় এক্সপোর্ট করতে পারতাম থ্রো ই-কমার্স চ্যানেল লাইক আলি এক্সপ্রেস বা আলিবাবা। চায়না আজকের চায়না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ তাদের কটেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাক্ট তারা রিটেইল প্রাইসে সারা বিশ্ব পৌছাতে পারছে। বাংলাদেশে একটা ফিনিসড টি-শার্টের খরচ পড়ে দেড় থেকে দু ডলার। ইউরোপ আমেরিকায় সেটার রিটেইল প্রাইস ২০-২২ ডলার। (কমেন্টে একটা আমেরিকান টিশার্ট সাইটের স্ক্রিনশট দিলাম) আমরা যদি শিপিং খরচ সহ ৭-৮ ডলারে একটা টি-শার্ট ইউরোপ এ্যামেরিকার এন্ড ইউসারের কাছে পৌছাতে পারতাম- কতো বড় মনোপলি ওয়েট করছে আমাদের জন্য! কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। রিটেইলিং করতে পারলে এরা শুধু বেচেই যেত না, ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়ে যেত। মূলত এই উদ্দেশ্যেই জোশ গিয়ার শুরু করা এবং এখন পর্যন্ত এই আশায় টিকে থাকা। দারাজে একাউন্ট খুলেছিলামও মূলত এই কারণে। ভেবেছিলাম আলিএক্সপ্রেস যুক্ত হওয়াতে ব্যাপারটা দ্রুততর ও সহজতর হবে। কিন্তু আলি এক্স এক্সপোর্টের চেয়ে তাদের প্রোডাক্ট এদেশে ইম্পোর্টেই বেশি আগ্রহী। ই-ক্যাব নাকি এটা নিয়ে কাজ করছে। একটা কমিটিও নাকি করছে- ক্রস বর্ডার কমিটি। দেখা যাক, এটা কবে আলোর মুখ দেখে!

যতদিন রিটেইলিং আলোর মুখ না দেখে ততদিন একটা সমাধান হতে পারে F&F এর মাধ্যমে ছোট ছোট স্কেলে প্রোডাক্ট পাঠানো। ট্রাভেল করার সময় একটা পোটলা পাঠায় দিলাম, শুটকি, আলু, পোটল না নিয়ে তারা কিছু টি-শার্ট নিয়ে গেলো। বেচে উভয় পক্ষেরই কিছু নগদ নারায়ণ আসলো। হাস্যকর মনে হলেও এরকম একটা মডেলেই কিন্তু ব্যাগ প্যাকার্স দীর্ঘদিন ধরে দেশে এ্যামাজনের প্রোডাক্ট এ্যামেরিকা থেকে আনাচ্ছে। আমরাই তো বেশ কয়েকটা শিপমেন্ট পাঠালাম বিভিন্ন দেশে। সেদিন গেলো এ্যামেরিকায়, আজকেরগুলো যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে। মোনাশ ইউনিভার্সিটির মুসলিম একটা অর্গানাইজেশনের জন্য। এর আগেও মিডল ইস্ট, রাশিয়ায় গেছে আমাদের প্রোডাক্ট।

বিজনেসের একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডে আমরা অবস্থান করছি। রিটেইল স্টোর, মিডলম্যান, ট্রেডিং বিজনেস বিশ্বজুড়েই আজ হুমকির মুখে। আমেরিকা, ইউরোপে শয়ে শয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিটেইল স্টোর। পক্ষান্তরে যারা উৎপাদক, মৌলিক পণ্য নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে সম্ভাবনার অপার দুয়ার। কোনরকম মিডলম্যান, ট্রেডার ছাড়াই তারা সরাসরি পৌছাতে পারছে এ্যান্ড ইউসারের একদম দোড়গোড়ায় অনলাইনের বিভিন্ন রকম প্লাটফর্মের মাধ্যমে। গ্রাহক, উৎপাদক উভয়ই এতে উপকৃত হচ্ছে। দেরীতে হলেও আমাদের সামনেও রয়েছে এ সম্ভাবনা। সেদিন বেশি দূরে নয় নীলফামারীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন উৎপাদকের পণ্য সরাসরি পৌছে যাবে আমেরিকার ডালাসের একজন গ্রাহকের ঘরে। এইসময়ে তাই প্রোডাক্ট এক্সিলেন্সে মনোযোগ দেয়া দরকার, সাথে টিকে থাকা ও সুযোগ খুজতে থাকা। ইন শা আল্লাহ সুদিন আসবেই।

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *