কুয়েটের র‌্যাগডে ও শাহবাগীদের গাত্রদাহ

KUET
Share This:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন অর্থাৎ র‍্যাগ ডে টা সবাই একটু উদযাপন করতে চায়। কুয়েটের সিইসি-১৫ ব্যাচের ছাত্ররাও চেয়েছিল ব্যতিক্রমী কিছু করে তাদের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে। কুয়েটকে অনেকেই ভুলভাবে কুয়েত উচ্চারণ করে, এটাকেই স্যাটায়ার করে সবাই মিলে কুয়েতি তথা আরবদের মতো করে জুব্বা ও শিমাঘ পড়ে উৎযাপন করেছে। এই আয়োজনে মেয়েরাও যেমন ছিল, তেমনি থাকার কথা হিন্দু স্টুডেন্টদেরও। এটা যে তারা আউট অফ রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট থেকে করেছে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়, নিছক ফান-ই উদ্দেশ্য, ছবিগুলো দেখলেই যেকারও বুঝে আসার কথা। কিন্তু এতে বাঙ্গালিত্বে আঘাত লেগেছে স্যুট, প্যান্ট, টাই পড়া কিছু বিলিতি সেক্যুলার বাঙ্গালীর।

পোস্ট গুলো ঘাটতে যেয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের আরও কিছু ছবি নজরে পড়লো! কেউ সেজেছে ভারতের তামিল ছবির নায়কের পোষাকে, কেউবা হাজার বছরের (!) বাঙ্গালী পোষাক লুঙ্গিতে (যদিও বিসিএসের প্রস্তুতি পর্বে শিখেছি লুঙ্গি একটি বার্মিজ শব্দ)। এই সবগুলো ‘চেতনা ফিল্টার’ উত্তীর্ণ হলেও আটকে গেছে সিএসই-১৫ ব্যাচ। কেউবা এখানে খুজে পেয়েছে বাঙ্গালিত্বের অভাব, কেউ সুশিক্ষার অভাব, কেউবা খুজে পেয়েছে আইএস কানেকশন।

আরব মরুভূমির দেশ। এখানকার প্রখর রোদ এবং ধুলাবালু থেকে বাচার জন্য জুব্বা খুবই আরামদায়ক একটি পোষাক, সেই সাথে রয়েছে পাগড়ি। নবীজী (সা.) এই জায়গাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই তিনিও এই পোষাক পড়েছেন। আমরাও নবীজী (সা.) এর প্রতি ভালোবাসা থেকে এই পোষাক পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই পোষাককে কিন্তু অপরিহার্য করে দেয়া হয় নি। নবীজী (সা.) এর উম্মাত যেমন আরবের মরুভূমির বুকে রয়েছে তেমনি এন্টার্কটিকার তীব্র শীতের দেশেও বাস করে। ইসলামে তাই কোন নির্দিষ্ট পোষাক সেট না করে পোষাকের ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়া হয়েছে, যেমনঃ ঢিলেঢালা পোষাক পড়তে হবে, অন্য ধর্মের প্রতীক হতে পারবে না, ছেলেরা মেয়েদের, মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পড়তে পারবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই নীতিমালাগুলো মেনে স্যুট প্যান্ট পড়েও যেমন ইসলামি পোষাক মেইনটেইন করা সম্ভব তেমনি জুব্বা পড়েও তা অনেক সময় অনৈসলামিক হয়ে যায় (অনেকেরই জুব্বা টাখনুর নীচে ঝুলতে দেখা যায়)।

তাই বোঝা যায়, জুব্বা, শিমাঘ ইসলামের কোন সলো পোষাক না। কিন্তু তারপরও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ এই ইসলামোফোব ক্রিয়েচারগুলার কতটা ভয়ংকর হলে কিছু বাচ্চা পোলাপানের একটা নির্দোষ বিনোদনেও এরা বাধা হয়ে দাড়ায়। এতো ঘৃণা নিয়ে, এতো বিদ্বেষ নিয়ে এরা কিভাবে ঘুমায় আল্লাহু আ’লাম। চারদিকে ক্রমবর্ধমান হুজুরায়নের কারণে এদের সৃষ্ট গাত্রদাহ ও মানসিক অশান্তি আল্লাহর তরফ থেকে দুনিয়াতেই এদের জন্য প্রেরিত আজাব। এই আজাবেই এরা জ্বলে পুড়ে মরুক। আমিন

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *