জ্ঞানী লোকের জ্ঞানী কথা

Share This:

“আল্লাহপাক কুরআনে ব্যবসার কথা বলেছেন, বলেছেন, ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি’। আর কোন প্রফেশনের কথা বলেননি, বলেছেন ব্যবসার কথা। ব্যবসার মধ্যে যদি কল্যাণকর কিছু না থাকতো, তবে তিনি ব্যবসার কথা এভাবে বলতেন না!”

– প্রফেসর কামরুল আরেফিন, আইবিএ-জেইউ

গতকাল ক্লাস নিতে গিয়ে আরেফিন স্যারের সংস্পর্শে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল কিছুটা সময়। ইনিই তিনি যিনি ২০১০-১২ সালের দিকে ক্লাসে দেশের ইকোনমি নিয়ে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছিলেন, ৪-৫ বছর পর ঠিক তাই তাই হতে দেখেছি। স্যারের সাথে কাটানো সময়ের সদ্ব্যবহারের সেই সুযোগ তাই হেলায় হারাতে চাই নি। দেশের চলমান ইকোনমিক মন্দা অবস্থা নিয়ে স্যারের মতামত ও দিক নির্দেশনা জানার চেষ্টা করেছি। স্যার বরাবরই অপটিমিষ্টিক লোক, এবারও তিনি খুব বেশি হতাশার কথা শোনালেন না। স্যারের কিছু অবসারভেশন তুলে ধরছিঃ

1. বাংলাদেশ সারাবিশ্ব জুড়েই চলমান মন্দা অবস্থার স্বীকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যে দেশগুলোতে পণ্য যায়, ভারত, ইউএসএ- তারা নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে মন্দা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সেখানে চলছে পলিটিকাল অস্থিরতা। মন্দা অবস্থার পাশাপাশি এরকম পলিটিকাল আনরেষ্টের সময় মানুষজন টাকা বের করতে চায় না, একারণে ইকোনমি একটু প্রেশারে আছে। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও খাটে।

2. সরকার একসাথে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টে হাত দিয়েছে যেগুলোর কাজ এই সময়ে শেষ হবার কথা ছিল, হয় নি, আরও টাকা লাগছে। একারণে লিকুইড ক্রাইসিসে আছে। এটারও একটা প্রভাব পড়ছে ইকোনমিতে।

3. আমি দেশ থেকে টাকা বের হয়ে যাবার কথা বললাম, স্যার এক্ষেত্রেও খুব বেশী হতাশার বাণী শোনালেন না। বললেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখনও আসলে ফরেন মার্কেটে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট মরার মতো ক্যাপাবল হয়ে উঠে নি! কিছু টাকা চলে যাচ্ছে বাড়িঘর কেনার জন্য। আমাদের যেমন স্বপ্ন থাকে ঢাকার বুকে একটা বাড়ির, কিছু লোক নিউইয়র্কে বাড়ি করার স্বপ্ন লালন করে। গভমেন্ট ফরেন রেমিট্যান্স আসলে স্ট্রেটওয়ে ২% ক্যাশ বোনাস দিচ্ছে, এছাড়াও কেউ লোকাল কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে যে সুযোগ সুবিধা পাবে, ফরেন কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি সুবিধা পাচ্ছে। স্যার রেটোরিকালি বললেন, আমার যদি এই মুহূর্তে টাকা এবং সুযোগ-সুবিধা থাকতো, তাহলে আমিই তো টাকা পাঠিয়ে সেটা আবার ফরেন কারেন্সি হিসেবে দেশে আনতাম।

4. স্যার দেশের ইকোনমির চেয়ে বরং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তাঁর আশঙ্কা, আমরা না আবার নিজ দেশে পরবাসী হয়ে যাই, পড়াশোনা ও স্কিলে পিছিয়ে পড়ার কারণে। গার্মেন্টসগুলোতে ইতোমধ্যে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- টপ লেভেলে সব ফরেইনাররা আর লোয়ার এন্ডে সব বাঙ্গালী।

5. ইকোনমি নিয়ে খুব বেশি কনসার্ন না হয়ে নিজ বিজনেসে ফোকাস করার জন্য তাগাদা দিলেন স্যার। বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনে মনোযোগ দিতে বললেন। বড়মাছরা সব মাঠে নেমেছে, ছোট হয়ে টিকে থাকতে হলে বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনের কোন বিকল্প নেই।

বিজনেস করছি জেনে স্যার খুব খুশি হলেন এবং মনে দাগ কাটার মতো কিছু কথা বললেন, যার মধ্যে একটি প্রথমেই উল্লেখ করেছি। দেশের ইকোনমির অশনিসংকেত, ব্যবসার মন্দাবস্থা, ব্যবসায়ীদের হাহাকারের মাঝে স্যারের সাথে কাটানো সময়টি ছিল সত্যিকারের আশাজাগানিয়া কিছু মূহুর্ত। দুআ করি স্যারের এই প্রেডিকশন যেন সত্যি হয়, অন্ধকার টানেলের ওই প্রান্তে আলোর দেখা যেন সহসাই চোখে পড়ে।

** ইকোনমি নিয়ে স্যারের প্রেডিকশনগুলো একান্তই তাঁর ব্যাক্তিগত মতামত, যেগুলো নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ সবসময়ই আছে।

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *