Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

“আমনামা : অনলাইনে আম বিক্রির সমস্যা, সম্ভাবনা”

ভূমিকা:

বছর ঘুরে আবারও এসেছে মধু মাস। আম, লিচু, কাঠাল, জামসহ হরেক রসালো ফলের আগমন ঘটে এসময়ে। ফলপ্রেমীদের সকলেই বছর ধরে এসময়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। সরাসরি গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতে অনেকেই এসময় পাড়ি জমান গ্রামের বাড়িতে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এসময় গ্রীষ্মের ছুটি নামে একটা লম্বা বন্ধ দেয়া হয়। যাদের নগরের বাইরে যাবার সুযোগ হয় না তাদের জন্য ফল ব্যবসায়ীরা নিয়ে বসেন নানা ধরনের মৌসুমি, তাজা ফলের পসরা। অফলাইনে প্রথাগত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিগত কয়েক বছরে শুরু হয়েছে অনলাইনে মৌসুমি ফল বিক্রির সংস্কৃতি এবং দিন দিন বাড়ছে এ প্রবণতা ও সেলারের সংখ্যা। স্বাভাবিকভাবেই একটা নতুন ব্যবসা বা ব্যবসার ধারা তৈরি হলে তাতে অনেক সমস্যা ধরা পড়ে এবং এদেশে ভালো কিছুকে নষ্ট করার লোকের যেহেতু অভাব হয় না, তাই অনলাইনে ফল বিক্রির এই সম্ভাবনাময় খাতেও বেশ কিছু সমস্যা চোখে পড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগের পাহাড় জমলেও মজার বিষয় হলো সেলাররা কিন্তু ঠিকই ধুমায়া সেল করছে। এক ভাই দেখলাম রাজশাহী শুরু করতে না করতেই সাতক্ষিরা দিয়েই ৪০০০ কেজি আম সেল করে ফেলেছেন। আরেক ভাই পিক আপে করে আম এনে নগদেই শেষ।

একদিকে অভিযোগের পাহাড় আবার আরেকদিকে ক্রমবর্ধমান সেলারের সংখ্যা এইখাতকে নিয়ে কৌতুহলের জন্ম দেয়, যার ফলাফল এই আর্টিকেল। এখানে ফল হিসেবে আম ব্যবহার করা হলেও আমের জায়গায় মৌসুমী যেকোন ফলই বসানো যাবে। আর্টিকেলটিকে আমরা পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছি:

ক) অনলাইনে আম বিক্রির সূত্রপাত

খ) অনলাইনে কেনো এতো আম বিক্রেতা

গ) অনলাইনে আম কেনায় সুবিধা বা মানুষ কেনো অনলাইন থেকে আম কিনে

ঘ) অনলাইনে আম কেনায় সমস্যা

ঙ) অনলাইনে আম বিক্রি বাড়াতে করণীয়।

চলুন শুরু করা যাক।

ক) অনলাইনে আম বিক্রির সূত্রপাত:

একটা সময় এদেশের অফলাইন মার্কেটে প্রাপ্ত আমগুলোতে কেমিকেল ও ফরমালিনের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয় বলে ঢালাও অভিযোগ তোলা হয়। সরকারও এসময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়ে কেমিকেলযুক্ত আম ধ্বংস করেছে। এইসময়টাতে কিছু সচেতন, শিক্ষিত মানুষজন নিজস্ব উদ্যোগে কেমিকেল ও ফরমালিনমুক্ত আমের উৎপাদন শুরু করে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করে। কালক্রমে অনেক ঘাটের জল খেয়ে অনেক ব্যবসায়ীর চালান খেয়ে তাদের পথে বসিয়ে আমরা এখন জানতে পারি প্রোটিন ও সবজিতে ফরমালিন কাজ করে না। সরকারের টানা অভিযান ও প্রচারণার ফলে কার্বাইডের ব্যবহারও প্রায় জিরোতে চলে এসেছে। এরপর থাকছে কীটনাশকসহ অন্যান্য যে বীষগুলো দেয়া হয় তা নিয়ে। আসলে যারা সম্পূর্ণ কেমিকেলমুক্ত আম বলে বিক্রি করছে হয় তারা অজ্ঞতাবশত এসব কথা বলেছেন অথবা মিথ্যে বলেছেন। কেমিকেলের ইউস ছাড়া পোঁকামুক্ত আম ঘরে পৌছানো কোনভাবেই সম্ভব না। ব্যাগিং আমে হয়তো কিছুটা কম কেমিকেল দিতে হয় বাট সেটার প্রোডাকশন খুবই কম এবং প্রাইস প্রায় তিনগুণ, হিসেবের বাইরে।

খ) অনলাইনে কেনো এতো আম বিক্রেতা

১) তুমুল চাহিদা:

কাঠাল আমাদের জাতীয় ফল হলেও আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এরকম সুমিষ্ট, সুস্বাদু ও রসালো ফল খুব কমই আছে। বিদেশী ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর, মাল্টা, কমলা ইত্যাদির বছরব্যাপি দাপট থাকলেও আমের এই সময়টাতে সবগুলোর চাহিদা কমে যায় এবং দাম সিজনের মধ্যে সবচেয়ে কম থাকে। আমের এই তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সেলারের সংখ্যাও অনেক বেশি থাকে, অনলাইনে, অফলাইনে।

২) শেলফ লাইফ :

অন্যান্য সিজনাল ফলের তুলনায় আমের শেলফ লাইফ বেশি। আমের মতো লিচুও অনেক সুস্বাদু ও রসালো ফল হলেও লিচুর শেলফ লাইফ খুবই কম। হারভেস্ট করার এক দিনের মধ্যে কাস্টমারের ঘরে পৌছাতে না পারলে লিচুর কোয়ালিটির বারোটা বেজে যায়। পক্ষান্তরে, আম হারভেস্ট করার ৮-১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং ভালোমতো পরিবহন করলে অক্ষত অবস্থায় কাস্টমারের ঘরে পৌছানো সম্ভব।

৩) ফ্লাশ সেল:

যেহেতু আমের চাহিদা বেশি, তাই ফ্লাশ সেলের মাধ্যমে ভালো একটা প্রফিট গেইন করা যায়। দুই-তিন মাসের মধ্যে ক্যাশ রোলিং করে সেটাকে বেশ সমৃদ্ধ করা যায়।

৪) ব্রান্ড প্রেজেন্স:

অনলাইনের এই যুগে ব্রান্ড প্রেজেন্সটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যখন আম নিয়ে ব্যস্ত, আমের ভিডিও দিচ্ছে, লাইভ করছে, ছবি দিচ্ছে, সেখানে আম নিয়ে কাজ না করা মানে নিজের ব্রান্ডের প্রেজেন্সটা কম হওয়া। অনলাইনে প্রচুর সেলার, এরমধ্যে চুপচাপ থাকা মানে ব্রান্ডের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। নিজের ব্রান্ডের প্রেজেন্সটা প্রমিমেন্ট করার জন্যও অনেকে আমের ব্যবসা চালিয়ে নেন, তাতে লাভের পরিমাণ কম হলেও বা ঝামেলা বেশি হলেও।

৫) ইকো-সিস্টেম:

বিগত কয়েক বছরে পারমিদাসহ বেশ কিছু সেলারের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনলাইনে আম বিক্রির ইকো-সিস্টেম দাড়িয়ে গিয়েছে, যদিও এখনও কিছু সমস্যা বর্তমান। চাষী ও সাপ্লায়ার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, আম উৎপাদনের জায়গাগুলোতে প্রায় সমস্ত কুরিয়ার. ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির শাখা খুলেছে, সরকার আম পরিবহনের জন্য স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বিকাশসহ এমএফএস, ব্যাংক, ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি অনলাইনে আম বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

৬) সিজনাল সেলার:

রাজশাহী, চাপাই, নাটোর, নওগাঁ, সাতক্ষিরা ও রংপুরের অনেক মানুষ এসময় সিজনাল আম বিক্রিতে নেমে যায়। বিশেষত, ছাত্র ও চাকরীজীবি যাদের নেটওয়ার্ক ভালো তারা এসময় আম ব্যবসায়ী হয়ে যায়। সিজনাল এই সেলারদের উপস্থিতির কারণে চারদিকে এতো আম ব্যবসায়ী মনে হয়।

গ) অনলাইনে আম কেনায় সুবিধা বা মানুষ কেনো অনলাইন থেকে আম কিনে

অনলাইনে মূলত ফরমালিন ও কেমিকেলমুক্ত বলে আম বিক্রি শুরু হয়। কেউ কেউ এখনো ফরমালিন ও কেমিকেলমুক্ত বলে আম বিক্রি করলেও বর্তমানে মূলত এই ইস্যুর বাইরে অনেক সুবিধা যুক্ত হয়েছে যার কারণে মানুষজন অনলাইনে আম ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছে। অনলাইন থেকে মানুষ আম কেনো কিনছে এই প্রশ্নটা আমরা Bangladesh Islamic Brands Forum (BIBF) এ রেখেছিলাম। সেখানে বেশকিছু অবজারভেশন উঠে এসেছে এ ব্যাপারে:

(১) অর্ডার করার সহজতা:

খুব সহজেই এখন অনলাইনে অর্ডার করা যায়। কোন কিছু অর্ডার করতে এখন আর ওয়েবসাইটেও যেতে হয় না। ফেসবুকের র্যান্ডম ব্রাউজের সময় কারও আম নিয়ে দেয়া কোন পোষ্টে যেয়ে কমেন্ট করলেই হয়, ‘ভাই আমার কাছে ২০ কেজি পাঠায় দিয়েন।’ ব্যস, ব্যুম। বাসায় চলে আসলো বা কুরিয়ারে।

(২) উপহার দেয়া:

কুরিয়ারে যেকোন লোকেশনে সেন্ড করা যায় দেখে অনেকে গিফট দিতে পারে। একে অন্যকে কিনে দেয়। এর জন্য অনেকেই অনলাইন আম সেলারদের দারস্থ হচ্ছেন।

(৩) অনলাইন নির্ভরতা:

এখন সব কিছুরই অনলাইন সেল বাড়ছে। মানুষ মাছ, মুরগী, হাস, ডিম, ভুঁড়ি সবই অনলাইনে কিনছে যেহেতু এফ্লুয়েন্ট মিডল ক্লাস বাড়ছে। মেয়েরা জবে ঢুকসে। বাসার কাজ শর্টকাট মেরে দিচ্ছে অনলাইনে দাম বেশী হলেও। মানুষ দিন দিন কম পরিশ্রমে ভালো আউটপুট পেতে অভ্যস্ত হচ্ছে। অনলাইন নির্ভরতা বাড়ছে। সময় বাঁচছে। হোম ডেলিভারিতে টাকা বেশী দিলেও নেয়।

(৪) অফলাইন সেলারদের দুর্ব্যবহার ও অসততা:

অফলাইনের বেশির ভাগ আম বিক্রেতা ক্রেতাকে মূল্যয়ন করে না যেহেতু তাদের জবাবদিহীতা নেই, এক আম বলে অন্য আম দেওয়া, অপুক্ত আম মিক্স করা, ওজনে কম দেওয়া। তার উপর আমের স্বাদ নিয়ে বেশির ভাগই সত্য কথা বলে না। তাদের মূলত রিপিট কাস্টমার দরকার নেই তাই তাদের স্টক খালি করাটাই থাকে মূল লক্ষ্য। এলাকার কিছু দোকানি হয়তো ভিন্ন হতে পারে তবে সেখানে তারা বেশি দাম নিয়ে পুষিয়ে নেই অনলাইনের মতই।

(৫) ট্রেসেবিলিটি:

অনলাইনে অধিকাংশ পরিচিত ব্যবসায়ী, ট্রেস করা সহজ। অনলাইন পুরাতন ব্যবসায়ীরা তাদের রেপুটেশনের ভয়ে, চেষ্টা করে, ওজন, সঠিক আম, সঠিক সেবা দেওয়ার জন্য যেন পরবর্তীতে সেই ক্রেতা তার কাছ থেকে আবার আম নেয়।

(৬) মিক্সড আম:

বাজারে মিক্সড আম পাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে অনলাইনে যেটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। যারা মূলত আম প্রেমী তারাই যেহেতু কিনে তাই তাদের কাছে মিক্সড আমের সম্ভাবনা এড়ানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

(৭) রিটার্ন/রিফান্ড পলিসি:

অনলাইনের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর রিফান্ড পলিসি স্ট্রং। আম নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলে অধিকাংশ সেলার রিফান্ড প্রদান করে।

(৮) প্রিমিয়াম প্যাকেজিং:

অধিকাংশ অনলাইন শপে আকর্ষণীয় ও মজবুত প্যাকেজিং করা হয়। যারা একটু প্রিমিয়াম ইউসার ও গিফট দিতে চায় অন্যকে তাদের প্রথম পছন্দ থাকে অনলাইন।

(৯) স্মার্ট সেলার:

অনলাইন সেলারদের আকর্ষণীয়, পরিমিত, শিষ্টাচার সম্পন্ন ব্যবহার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে অনলাইনে কেনাকাটা করতে যা পাড়ার দোকানদারদের থেকে পাওয়া যায় না।

গ) অনলাইনে আম কেনায় সমস্যা

লেখাটি মূলত শুরু হয়েছিল মূলত অনলাইন আম কেনা নিয়ে একভাইয়ের নেতিবাচক পোষ্ট দিয়ে। সেই ভাইয়ের পোষ্ট, আমার নিজের অবসারভেশন এবং ফেসবুকে আরও অনেকের নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে ধারণা হয়েছিল অনলাইনে আম বিক্রি নিয়ে সবার অভিযোগ আর অভিযোগ। অনলাইনে আম বিক্রির ভবিষ্যত মনে হয় অন্ধকার। কিন্তু পোষ্ট লেখার রসদ সংগ্রহ করতে যেয়ে দেখি পরিস্থিতি উল্টো সবাই খুব ভালো ব্যবসা করছে অনলাইনে এবং দিনকে দিন সেলারের সংখ্যা বাড়ছে। তবে অনলাইনে আম কিনতে যেয়ে গ্রাহককে যে বিড়ম্বনা বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না তা কিন্তু না। চলুন দেখে নেয়া যাক অনলাইনে আম কেনার সমস্যাগুলো কি কি:

১) আম সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকা:

অনলাইনের অধিকাংশ সেলার আরেকজনের ঘাড়ে কাঠাল ভেঙ্গে খায়। তারা নিজেরা আম সম্বন্ধে সঠিক ও গভীর ধারণা ছাড়া শুধু ভাসা ভাসা কিছু লেখা ও কথামালার দ্বারা আম বিক্রি করার চেষ্টা করে। কোন আম কখন পাঁকে, কখন সুস্বাদু হয়, দেখতে কেমন এগুলো জানা ছাড়াই ফোনে ফোনেই ব্যবসা করতে চায়। ফলে প্রথম প্রথম দুয়েকটা চালান ভালো পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঠকতে হয় যার আল্টিমেট ভুক্তভোগি হচ্ছেন ভোক্তা।

২) কুরিয়ার চার্জ:

অনলাইনে আম কিনলে প্রতি কেজিতে কুরিয়ার চার্জ ও অন্যান্য খরচবাবদ অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা দিতে হয়, যা অফলাইন সেলারের নিকট থেকে ক্রয় করলে বেঁচে যায়। অফলাইন সেলাররা অনেক হিউজ এমাউন্ট আম নিয়ে আসে বলে তাদের ট্রান্সপোর্টেশন খরচ অনেক কম পড়ে। অনলাইনে আম বিক্রির অন্যতম বড় বাঁধা হলো এই কুরিয়ার চার্জ।

৩) পরিবহনে আম নষ্ট হওয়া:

অফলাইনে আম কিনলে দেখে-শুনে যাচাই বাছাই কিনে আম কেনা যায়, কিন্তু অনলাইনে আম ক্রয়ের ক্ষেত্রে এক ক্যারেট বা এক কার্টুন কিনতে হয়, পেমেন্ট অধিকাংশ সময় আগে করে দিতে হয়, পরিবহনে আম ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার দ্বায় গ্রাহককে বহন করতে হয়। কুরিয়ার কোম্পানির লোকজন বড় অযত্নে আম পরিবহন করে যেকারণে আম নষ্ট হওয়ার হারও অনেক বেশি থাকে।

৪) পরিমাণে বেশি কিনতে হয়:

অনলাইনে এক সাথে বেশি আম কিনতে হয় ফলে আমের একটা অংশ বাসাতে থেকে পচে যেটা পরে ফেলে দিয়ে আমের ভাল অংশটা খেতে হয়| কুরিয়ার খরচ ও অন্যান্য খরচ অনেক বেশি হয় বলে কম কোয়ান্টিটি নিলে দাম অনেক বেশি পড়ে যায়।

৫) হোম ডেলিভারি না পাওয়া:

অধিকাংশ অনলাইন আম সেলারের ঢাকায় নিজস্ব ডেলিভারি চ্যানেল নেই। ঢাকার বাইরে থেকে কুরিয়ারে তারা আম পাঠিয়ে দেয়, সে আম রিক্সাভাড়া দিয়ে ঘাড়ে করে বহন করে বাসায় আনতে হয়। যে স্বাচ্ছন্দের জন্য মানুষ অনলাইন থেকে আম কিনে, উল্টো এক্ষেত্রে আরও বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়। কুরিয়ার অনেক সময় ডিলে করে, সেক্ষেত্রে আম পচে পুচে বিড়ম্বনার মাত্রা বেড়ে যায়।

ঙ) অনলাইনে আম বিক্রি বাড়াতে করণীয়:

শত সমস্যা, হাজারো অভিযোগের পরও ক্রেতারা আম কেনার ক্ষেত্রে অনলাইনের দারস্থ হচ্ছেন, আমের বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে সেলারের সংখ্যা। ফ্লাশ সেলের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ভালো একটা প্রফিট জেনারেট করা এবং নিজের ব্রান্ডের উপস্থিতি জানান দেয়ার জন্য অনলাইনে আম বিক্রির বিকল্প নেই। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে সুপিরিয়র গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজের ব্রান্ড ভ্যালু যেমন বাড়ানো সম্ভব তেমনি পুরো ইকো-সিস্টেমটাও ডেভেলপ করা সম্ভব। বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে অনলাইনে আম বিক্রি বাড়াতে করণীয় সম্বন্ধে কিছু সুপারিশ করা হলো:

১) নিজস্ব ডেলিভারি চ্যানের ডেভেলপ করা:

অনলাইনে মানুষ প্রোডাক্ট অর্ডার করে কনভিনিয়েন্সের জন্য। আম অর্ডার করে যদি রিক্সাভাড়া দিয়ে কুরিয়ার পয়েন্ট থেকে ঘাড়ে করে আম আনতে হয় তাহলে আর কি লাভ হলো। মানুষ অনলাইনের বদলে বাসার সামনের মোড়ের দোকান বা ভ্যানপ্লাজাকেই প্রাধান্য দিবে। কুরিয়ার সার্ভিস যারা হোম ডেলিভারি দেয়, যে পরিমাণ চার্জ তারা নেয় সেই টাকা দিয়ে সমপরিমাণ আম অর্ডার করা সম্ভব। এসমস্যা দূরীকরণে নিজস্ব ডেলিভারি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করার কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কয়েকজন সেলার মিলে সিন্ডিকেট গঠন করে একসাথে কাজ করা যেতে পারে।

২) কম কোয়ান্টিটি অর্ডার করার ব্যবস্থা:

অনলাইন আম পরিবহন মূলত প্লাষ্টিকের ক্যারেটের মাধ্যমে করা হয়। এক ক্যারেটে ২০ কেজি, ছোটগুলোতে ১২ কেজির মতো আম ধরে। প্লাষ্টিক কারখানাগুলোতে অর্ডার দিয়ে ছোট ক্যারেট বা এজাতীয় পাত্রের মাধ্যমে এরচেয়ে কম কোয়ান্টিটি আম ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে করে ছোট পরিবার বা যাদের কম কোয়ান্টিটির আম দরকার, তাদের যেন বেশি আম নিয়ে পচিয়ে ফেলতে না হয়।

৩) চাষী ও আড়ৎদার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি:

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মানুষ অনলাইনে কেমিকেলমুক্ত আমের দারস্থ হয়েছে। অনেক আমচাষী অজ্ঞতার কারণে অপরিমীতভাবে রাসায়নিক, গ্রোথ হরমোন ও সিনথেটিক সারের ব্যবহার করে আমকে বিষাক্ত করে তুলছে। নিরাপদ আম উৎপাদনের ব্যাপারে কৃষক ও আড়ৎদার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে অগ্রিম অর্থ প্রদান করে বাগান বুক করে আমচাষের সাথে যুক্ত হতে হবে বা ক্লোজ সুপারভিশন করতে হবে।

৪) ব্রান্ডিং ও প্যাকেজিং এ নজর:

অনলাইনে হাজারো সেলারের ভীড়ে নিজের ব্রান্ডকে পৃথক করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো ব্রান্ডিং ও প্যাকেজিং নজর দেয়া। অনলাইনে মূলত প্রিমিয়াম গ্রাহকেরা আম ক্রয় করে থাকে এবং উপহারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে আমের প্যাকেজিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

৫) রিফান্ড পলিসি ও আফটার সেলস সার্ভিস:

লংটার্মে ব্রান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দাম কমানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না নেমে সেলারদের ব্রান্ডিং, প্যাকেজিং ও আফটার সেলস সার্ভিস উন্নতিকরণে নজর দেয়া উচিত।

উপসংহার:

অনলাইনে আম বিক্রি নিয়ে অনেক নেগেটিভ প্রচারণা, প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বাস্তবতা হলো অনলাইনে আম কেনার প্রবণতা বাড়ছে এবং ট্রেন্ড এনালিসিস করে এটা হলফ করে বলা যায়, অনলাইনে আম বিক্রির ভবিষ্যত উজ্জ্বল। কাষ্টমারের ভ্যালিড অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ে মানসম্মত নিরাপদ আম নায্যমূল্যে উত্তম ও ব্যতিক্রমী প্যাকেজিং এ যদি কাষ্টমারের নিকট পৌছানো যায়, তবে হাজারো সেলারের ভীড়ে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরী হবে এবং আরও অধিক সংখ্যক গ্রাহক অনলাইনে আম ক্রেতার প্রতি আগ্রহী হবে। ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনে ট্রাফিক জ্যাম মাড়িয়ে কেনাকাটার বিপরীতে অনলাইনে কেনাকাটার কোন বিকল্প নেই। অনলাইন শপিংয়ের এই অগ্রযাত্রা রোধ হবার নয়। এই মার্কেট প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং বাড়বে। বিষয় হচ্ছে আমি এই অপার সম্ভবনার মার্কেটে একজন সেলার হিসেবে নিজের জায়গা করে নিতে পারছি কিনা। প্রতিবছর আমাদের কমিউনিটিতে নতুন নতুন সেলার আসছে এবং নিরবে নিভৃতে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাইনা যে আগ্রহ নিয়ে, উদ্দীপনা নিয়ে সেলাররা জ্বলে উঠছে তা অপরিচর্যা, অযত্নে নিভে যাক। আমাদের সেলাররা জ্বলে উঠুক আপন শক্তিতে, ধ্রুবতারা হয়ে আলো বিলিয়ে যাক শতসহস্র বছর।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

ব্রান্ড নেম দেয়ার সময় কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিৎ (Video)

 part of the URL. Read about 

“ফুলকে তুমি যে নামেই ডাকো, সৌরভ ছড়াবেই”, গ্রামার বইয়ে যতই এ ধরণের কথা লেখা থাকুক, ব্রান্ড নেম একটি বিজনেসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা শুরুর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ব্রান্ড নেম। অনেকেই ব্যবসার শুরুতে আবেগের বশে বা অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে এমন নাম দিয়ে ফেলেন যা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিপদে পড়তে হয়। অনেককে তো পরবর্তী সময়ে তাদের নাম পর্যন্ত পাল্টাতে হয়েছে। তাই আসুন জেনে নেই ব্রান্ড নেম সিলেকশনের ব্যাপারে কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত। আশা করি নতুনদের জন্য আর্টিকেলটি উপকার বয়ে আনবে। ই্ন্টারনেটের সহযোগিতা নিয়ে লোকাল পার্সপেক্টিভ থেকে সহজবোধ্য ভাষায় বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। চলুন শুরু করা যাক।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

ব্রান্ড নেম দেয়ার সময় কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিৎ

মোহাম্মদপুরে আমার যাওয়া আসার রাস্তায় প্রতিনিয়ত একটা বিরিয়ানির দোকান চোখে পড়ে, নাম ধরা যাক “বিরিয়ানি বাজার”। দোকানের অবস্থা যে ভালো না, শূন্য চেয়ারগুলোই তার সাক্ষি। প্রতিদিন দোকানটা পার হই আর নিজেকেই প্রশ্ন করি, দোকানটা চলে না কেনো?!? আবাসিক এরিয়ার মাঝখানে এরকম একটা খাবারের দোকান না চলার কোন কারণই নেই। আশেপাশেও কোন খাবারের দোকান নেই। চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, এই দোকানের নামটাই হলো এর আসল সমস্যা। স্পেসিফিক প্রোডাক্ট ওয়াইজ ব্রান্ড নেম হওয়াতে কাষ্টমাররা এ দোকানে বিরিয়ানীর বাইরে অন্য কিছু পাওয়া যায় ভাবতে পারে না, মালিকপক্ষও বিরিয়ানির পাশাপাশি অন্য কিছু নামিয়ে বিজনেস ডাইভার্সিফাই করার কথা চিন্তা করতে পারে না।

আজকের সকালটা শুরুই হয়েছে তাজাফল নিয়ে এই স্ক্রিনশটগুলো দেখে হাসতে হাসতে। তাজাফল এখন সবার কাছে তোফাজ্জল ভাইয়ে পরিণত হয়েছে, কারও কাছেবা আবার ‘তাজা পাখি’তে।

ওদের পেজ ঘুরে এবং ওদের ব্যাখ্যা শুনে যেটা বুঝলাম তাজা ফল বিশুদ্ধ খাবার নিয়ে কাজ করছে, শুরুতে ফল নিয়ে শুরু করলেও এখন অন্যান্য খাবার নিয়েও কাজ করছে। বিশুদ্ধ খাবার নিয়ে এরকম অনেকেই কাজ করছে, কিন্তু তাজাফলের মতো এরকম মানুষের ট্রলের স্বীকার হতে হয় নি অন্যদের। তাজাফলে তাজা মোরগ পাওয়া যায়, এ জিনিসটা আসলে মানুষ নিতে পারে না, ব্রান্ড নেমের সাথে প্রোডাক্ট টাইপ যায়ও না।

একারণে আমি প্রোডাক্ট টাইপ অনুযায়ী ব্রান্ড নেম সিলেকশনের একেবারেই বিরোধী। “ফুলকে তুমি যে নামেই ডাকো, সৌরভ ছড়াবেই” – যতই এধরণের বাগধারা ব্যাকরণ বইয়ে থাকুক, ব্রান্ড নেম একটা বিজনেসের জন্য খুবই ভাইটাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষজন যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিয়ে বিজনেস শুরু করে, সেটাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে প্রোডাক্ট দিয়ে বিজনেস শুরু করা হয়, ডাইভার্সিফাই হতে হতে কিছুদিন পর সেটার আর অস্তিত্বই থাকে না। এখন আপনি যদি আপনার সেই শুরুর প্রোডাক্টের ধরণ দিয়ে বিজনেসের নামকরণ করেন, তাহলে কিন্তু ডাইভার্সিফাই করা খুবই টাফ এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। তাজাফলের মতো তোফাজ্জল ভাইয়ে পরিণত হতে হবে তখন।

ধরুণ আপনি ইসলামিক টিশার্ট নিয়ে বিজনেস শুরু করলেন, এবং ব্রান্ডের নাম দিলেন, “বেষ্ট ইসলামিক টিশার্ট বিডি ডট কম”। এভাবে নাম দেয়াতে আপনি শুরুতে আপনার টার্গেট মার্কেটের কাছে সহজে পৌছাতে পারলেও, এরকম নামের মাধ্যমে আপনি কিছু জিনিস নির্দিষ্ট করে ফেললেন, যা পরবর্তীতে আপনার বিজনেস ডাইভার্সিফিকেশনের জন্য অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। এই নামের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট করলেনঃ

– আপনার এটা একটা বাংলাদেশী ব্রান্ড

– এটা অনলাইন ব্রান্ড

– এটা টিশার্ট নিয়ে কাজ করে

– এখানে ইসলামিক টিশার্ট পাওয়া যায়।

এখন আপনার কাছে একটা অপরচুনিটি আসলো বিদেশে টিশার্ট সেল করার বা ইসলামিক টিশার্ট এর পাশাপাশি অন্য সেগমেন্ট বা নীশের জন্যও টিশার্ট আনবেন, আপনি কিন্তু আপনার নামের কাছেই ধরা খেয়ে গেলেন। একারণে নাম সিলেকশনের ব্যাপারে সতর্ক হোন, ব্রড নাম রাখুন। নামের কারণে যেন কোন উইন্ডো বন্ধ না হয় বা কোন অপরচিউনিটি নষ্ট না হয়।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

৭টি কারণ, কেনো বিজনেসে ডাইভার্সিফিকেশন প্রয়োজন

এই লেখাটি মূলত আমার শুভানুধ্যায়ী ও নিকটজনদের জন্য লেখা। তাদের অনেকের অভিযোগ আমি বিজনেসে ফোকাসড না। আজ এই মাস্ক, তো কাল মশলা, পরশু ব্যাগ, তো তরশু টিশার্ট। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু অস্থির প্রকৃতির, এটা সত্য। পরীক্ষার খাতা রিভিশন না দেয়ার জন্য আম্মুর বকা খাওয়া ছিল কমন। পরীক্ষা দেয়ার পর সেই খাতা রিভিশন দেয়ার মতো ধৈর্য্য আমার কখনই ছিলো না। বড়বেলাতে এসেও এই যে ব্যবসায় বৈচিত্র্য, এতেও যে সেই চাঞ্চল্য নেই তা কিন্তু অস্বীকার করছি না, হয়তো আরেকটু ধীরে চলা বা আরেকটু ফোকাস হওয়া উচিত ছিল, তবে এই ডাইভার্সিফিকেশনের পেছনে কিন্তু অনেকগুলো কারণ রয়েছে এবং এগুলো ব্যাকড বাই থিওরী। তাই এই লেখাটি নিজের স্বীকারোক্তিমূলক লেখা হলেও আশা করি নতুনদের জন্য কাজে দিবে। তো চলুন শুরু করা যাক, কেনো বিজনেসে ডাইভার্সিফিকেশন জরুরি বা বিজনেস ইউনিট বাড়লে এটা আপনাকে ব্যবসায় কি কি সুবিধা দিবে।

১) ডেলিভারি চেইনে সুবিধাঃ

বিজনেস ডাইভার্সিফিকেশন করার পেছনে আমার অন্যতম কারণ হলো ডেলিভারি চেইনে বেনিফিট নিয়ে আসা। আমার যাত্রা শুরু এবং অদ্যাবধি পথচলা অনলাইনে। যারা এই লাইনে কাজ করছেন তারাই জানেন এব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ডেলিভারি চ্যানেলটা মেইনটেইন করা। থার্ড পার্টি কুরিয়ার হ্যান্ডেল করার মতো প্যারা আর দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু ৮-১০ টা ডেলিভারি ডেইলি না থাকলে নিজের একটা ডেলিভারি চ্যানেল ডেভেলপ করারও হাতি পোষার সামিল। কিন্তু ফেসবুকের একটা ছোট বিজনেস থেকে ডেইলী ৮-১০ অর্ডার পাওয়া অনেক কঠিন। তাই এরকম ছোট ছোট ২-৩ টা ভেঞ্চার আপনাকে এনে দিতে পারে সেই কাঙ্ক্ষিত ৮-১০ টা অর্ডার। ফলে আপনি নিজের মতো করে ডেলিভারি চ্যানেলটা সাজাতে পারবেন। ডেলিভারিম্যানকে COD দিয়ে প্রোডাক্ট পাঠিয়ে দেয়ার পর কাস্টমার যদি ফোন দিয়ে বলেন, বিকাশে পেমেন্ট দিবেন, ব্যস একটা ফোনকল যথেষ্ট। টি-শার্ট, পিপিই ৩-৪ টা পাঠিয়ে দিতে পারবেন কাস্টমারের নিজে পছন্দ করে নেয়ার জন্য, যেকোন ইস্যু খুব দ্রুত ও সহজে ম্যানেজ করা যায় নিজের ডেলিভারিম্যান থাকলে, যেটা থার্ড পার্টিতে হ্যান্ডেল করা খুব কঠিন, মাঝে মাঝে অসম্ভব।

২) নেক্সট লেভেলে যাওয়াঃ

প্রত্যেকটা ব্যবসার অনেকগুলো পর্যায় থাকে। সবাই শুরুতে ছোট আকারে শুরু করলেও সবার স্বপ্ন থাকে সেটাকে আরও বড় করা, কমার্শিয়ালাইজেশন করা বা পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া যেটাকে কেতাবী ভাষায় ‘স্কেল আপ’ বলে। যেকোন ব্যবসা শুরু করে সেটাকে একটা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সহজ, স্কেল আপ করতে গেলে অনেক ফান্ডের দরকার, অনেক সময়ের দরকার। আমি যেহেতু ব্যাংক লোন নিবো না বা পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি না, তাই আমার জন্য একটাকে নিয়ে পড়ে থাকা যুক্তিহীন। তাই একটা ভেঞ্চারকে একটা লেভেলে নিয়ে যাবার পর আরেকটা এরকম ছোট উদ্যোগ শুরু করি। আমার লক্ষ্য হলো এরকম ২-৩ টা উদ্যোগকে সাথে নিয়ে একসাথে প্যারালালি নেক্সট লেভেলে যাওয়া বা স্কেল আপ করা।

৩) রিসোর্সের অপটিমাম ইউটিলাইজেশনঃ

আপনার ২-৩ টা ভেঞ্চার (এগুলোকে বিজনেসের ভাষায় SBU বলে, Strategic Business Unit, এরপর থেকে আমরা SBU টার্মটা ইউস করবো) থাকলে একই রিসোর্স আপনি সবগুলোতে কাজে লাগাতে পারবেন। আমার ব্যাগের প্রিন্টিং সেট আপ দিয়েই টিশার্ট তৈরি করতে পারছি, টিশার্ট শোরুমের ম্যানেজারকে দিয়ে খাবার প্যাকেজিং করাতে পারছি, কারখানার ওয়ার্কার দিয়ে হোম ডেলিভারি দেওয়াতে পারছি। সীমিত রিসোর্সকে আপনি অপটিমাম ইউস করতে পারবেন SBU থাকলে। এজন্য ডাইভার্সিফিকেশন জরুরী।

৪) ক্যাশ কাউ জেনারেট করাঃ

ক্যাশ কাউ বলে ওই বিজনেসকে যেটা আপনাকে অল্প পরিশ্রম ও ইনভেস্টমেন্ট এ ক্যাশ দিতেই থাকবে। যেকোন ব্যবসায়ীর জন্য ক্যাশ কাউ ডেভেলপ করা স্বপ্নের মতো। কারও প্রথম উদ্যোগই ক্যাশ কাউ হয়ে যায়, কারও বা লাগে ৮-১০ টি ভেঞ্চার। এরকম একটা ক্যাশ কাউ থাকলে বিজনেস সাসটেইন করা বা বাকিগুলোকে টেনে নেয়া ইজি। আমি যেহেতু এখনও ক্যাশ কাউয়ের সন্ধান পাইনি, তাই বাড়িয়েই চলছি ব্যবসা, দেখি কবে দেখা পাই সেই দুধেল গরুর।

৫) নতুন শুরুর উত্তেজনাঃ

মানুষ এইযে এতো কষ্ট করে অ্যাডভেঞ্চারে যায়, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে উঠে, কিসের জন্য? নতুন কিছু করা, নতুন কিছু দেখার উত্তেজনা থেকেই তো। নতুন একটি বিজনেসও এরকম নতুন একটি উত্তেজনা, অদেখাকে দেখা, অজানাকে জানা, এ্যাড্রেনালিন রাশ। একই বিজনেসে বছরের পর বছর পরে থাকা একঘেয়েমি এনে দিতে পারে, বিজনেসের প্রতিই বিরক্তি এনে দিতে পারে, ফ্যাটিগ তৈরি করতে পারে। নতুন একটি বিজনেস, ফ্রেশ একটি স্টার্ট, আপনাকে উজ্জীবিত করতে পারে, নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখার উত্তেজনা এনে দিতে পারে, যা কোন অংশেই পাহাড়ে উঠা বা অ্যাডভেঞ্চার করার চেয়ে কম নয়।

৬) অফসিজনে বসে না থাকাঃ

প্রায় প্রতিটা বিজনেসে সিজন, অফসিজন আছে, পিক টাইম, অফ টাইম আছে। অফসিজনে এমপ্লয়ি পোষা হাতি পোষার সামিল, আবার তাদেরকে যে ছেড়ে দিবেন বা টিম ছোট করবেন তাতেও সমস্যা, পিক টাইমে বিপদে পড়বেন। SBU থাকলে আপনি একটা বিজনেসের অফসিজনে আপনার টিমকে অন্য বিজনেসে কাজে লাগাতে পারবেন। করোনার এই সময়ে ব্যবসার ধীরগতির কারণে আমাদের ব্যাগের ব্যবসায় মন্দা চলছে, তবে আমরা কিন্তু বসে নেই। পুরো টিমকে মাস্ক, খাবার, টিশার্ট এর কাজে লাগিয়ে দিয়েছি, হোম ডেলিভারিতে ব্যস্ত আছি। শুধু ব্যাগ নিয়ে পড়ে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকতো না।

৭) ক্রোস সেলিংঃ

একটা বিজনেসে আপনার একটা ভালো কাষ্টমার বেস তৈরি হলে বা একটা গুড রেপুটেশন তৈরি হলে এই কাষ্টমার বেসকে আপনি আপনার অন্য বিজনেসেও কাজে লাগাতে পারবেন। যে আপনার খাবারের প্রোডাক্ট এ সন্তুষ্ট, আপনি যখন মাস্ক নিয়ে আসবেন, তখন তিনি এধারণাটা পাবেন যে হাজারও ভেজালের ভীড়ে আপনি তাকে ভালো জিনিসটাই দিবেন। আমার কাছে কেউ যখন মাস্কের খোজ করে, তখন তাকে খাবারের লিস্টটাও ধরিয়ে দেই বা ভাইস ভার্সা, আর কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করি। SBU এর মাধ্যমে আপনি এরকম ক্রোস সেল করতে পারবেন।

এগুলোর বাইরেও বই ও আর্টিকেলে বিজনেস ডাইভার্সিফিকেশনের আরও অনেক বেনিফিট পাবেন, রিস্ক মিনিমাইজেশন, কস্ট কাটিং সহ আরও অনেক কিছু। ফাইন্যান্সে তো খুব পপুলার একটা প্রবাদ আছে ডাইভার্সিফিকেশন নিয়ে- “Don’t put your all eggs in one busket”. তবে বিজনেস ডাইভার্সিফিকেশনের অনেক নেগেটিভ সাইডও আছে। বিজনেসে ফোকাস নষ্ট হয়ে যায়, গ্রোথ কমে যায়, মাল্টিটাস্কিং না হলে ম্যানেজ করা খুব ডিফিকাল্ট। তাই উপরে উল্লেখিত পয়েন্টগুলোর আলোকে আপনার নিজেকেই ডিসিশন নিতে হবে কখন ডাইভার্সিফিকেশন করবেন, কতটুকু করবেন, কিভাবে করবেন বা আদৌ করবেন কিনা, নাকি একটাতেই ফোকাস থেকে সেটাকে পিকে নিয়ে যাবেন।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়!

এই লেখাটা মূলত যারা এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পড়াশুনা করছে, তাদের জন্য। বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম ক্যাম্পাসভিত্তিক একটা বিজনেস ফোরামের জন্য। গতবার আইবিএ-জেইউ তে একটা ক্লাসও নিয়েছিলাম এই টপিকের উপর। ভাবলাম সবার সাথে শেয়ার করি আর্টিকেলটা।

ক্যাম্পাসে পড়াশুনার ফাঁকে অনেক অফ-টাইম পাওয়া যায়। একেকজন একেকভাবে সময়গুলোকে ব্যয় করে। কেউ মুভি দেখে, কেউ গান শুনে, কেউ খেলাধুলায়। কতই না ভালো হয়, কেউ যদি এই সময়গুলোকে ব্যবসার জন্য কাজে লাগায়। এখন অনেকেই ছাত্রাবস্থাতেই বিভিন্ন উদ্যোগে জড়িয়ে পড়ছে, এটা খুবই ভালো একটা দিক। একসময়ে ক্যাম্পাসে বিজনেস শুরু করা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সে তুলনায় ক্যাম্পাসগুলো এখন অনেক ব্যবসা বান্ধব। এছাড়া অনলাইন প্লাটফর্ম-ও ব্যবসার এন্ট্রি ব্যারিয়ারগুলো অনেক কমিয়েছে। এখন অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় ব্যবসা শুরু করা সহজ।

ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের নিয়ে অসাধারণ একটা আর্টিকেল পড়লাম। আমাদের ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের জন্য সেটা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। বিদেশী আর্টিকেলে দেশী মালমশলা যোগ করে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনের। কেন হবেন ক্যাম্পাস উদ্যোক্তা? আসুন জেনে নেইঃ

১. লো রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড:


ক্যাম্পাস স্টার্ট আপ এ আসলে হারানোর কিছু নেই। সবচেয়ে খারাপ সিনারিও হচ্ছে, আপনি যেটা করছেন সেটাতে অর্থ্যাৎ পড়াশুনায় ফিরে যেতে হবে। পক্ষান্তরে যদি ব্যবসা সফল হয় তো আপনি ক্যাম্পাস হিরো, রোল মডেল, ক্লাস লেকচারের কেস স্টাডি। ক্যাম্পাসের ৫-৬ বছরের জীবনে প্রতি বছর সিরিয়াস ভেঞ্চার শুরু করার সুযোগ রয়েছে এবং পরবর্তী ১২ মাস সেটাকে ইভালুয়েশনের সুযোগ থাকছে, যে এটা কাজ করছে কিনা। কেউ হয়তো প্রথম বারই সফল হবে, কেউ ঘুরে দাড়াবে অথবা ত্যাগ করবে এবং নতুন কিছু শুরু করবে।

২. ক্যাম্পাস রিসোর্সঃ


কিছুদিন আগে সরকারের একটা আইটি প্রজেক্টের ওয়ার্কশপে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, সেখানে কী নোট স্পীকার ছিলো, জাহাঙ্গীরনগরের সিএসই ডিপার্টমেন্টের এক অধ্যাপক। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এরকম রিসোর্স পারসনদের দুয়ারে আমাদের কিরকম অবাধ এক্সেস! অধিকাংশ শিক্ষকই যে-কোন পজিটিভ ছাত্র উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে ভালোবাসেন। ঠিকভাবে এপ্রোচ করলে আপনার খুব ছোট উদ্যোগেও তাঁরা যুক্ত হতে দ্বিধা করবেন না। আমাদের এক স্যার ক্লাসে বাংলাদেশের ইকোনমি ও বিজনেস নিয়ে যে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছেন, ৬-৭ বছর পর এসে ঠিক সেরকম হতে দেখছি!

৩. রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইডুকেশনঃ


পুথিগত বিদ্যা ও বাস্তব জীবনের বিরাট সেতুবন্ধন হচ্ছে ব্যবসা। ক্লাসের পড়া শেষ করে আসার পরও বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার তাগিদে কখনও কটলারের বই, কখনও বা একাউন্টিংয়ের বইটা খুলে একাউন্টিং প্রিন্সিপালসগুলো দেখে নিতে হয়। ছাত্র-ব্যবসায়ীরা তাদের বুকিশ জ্ঞানগুলোকে যেমন ব্যবসায় লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের একাডেমিক লার্ণিও অনেক কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। এপ্রসঙ্গে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিয়র জর্ডান গুনেন এর একটি উক্তি তুলে ধরছি,: “যদিও ব্যবসা শুরু করা ক্লাসরুম লেসনের চেয়ে ১০০গুণ কঠিন, তবে টেক্সট বুক লেসনের চেয়েও এতে ১০০ গুণ বেশী শেখা যায়।

৪. সহজপ্রাপ্য কাষ্টমারঃ


অধিকাংশ কোম্পানী তাদের প্রোডাক্ট বা আইডিয়া টেষ্টিং এর জন্য ইয়ুথদের বেছে নেয়। ছাত্রাবস্থায় আমিও অনেক কোম্পানীর ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে গিয়েছিলাম। ইয়ুথরা হলো যেকোন এক্সপেরিমেন্ট করার আদর্শ সেগমেন্ট। কেতাবী ভাষায় বলা হয়, ‘আরলি এডপটার’। ক্যাম্পাস এন্টারপ্রেনিয়ররা খুব সহজেই তাদের প্রোডাক্ট, আইডিয়া বন্ধুদের মাঝে, সিনিয়র, জুনিয়রদের মাঝে টেষ্ট করতে পারে। এছাড়া বর্তমানে ফেসবুকের যুগে যে কোন বিষয়কে ভাইরাল করা বা ট্রেন্ড তৈরীর পেছনে ইয়ুথরা বড় ভূমিকা রাখে।

৫. মেনটরিং:


স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় যেকারও কাছে এ্যাক্সেস পাওয়া যায়। কেউ যদি কোন কোম্পানির CEO/CEO’র পিএসকে ফোন দিয়ে বলে যে, “আমি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি এবং একটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি এবং আপনার কাছ থেকে পরামর্শ পেতে চাই”, তাহলে খুব কম মানুষই আছে, এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে। সফল উদ্যোক্তারা তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিতে ভালোবাসেন। তারা অন্য যেকারও চেয়ে আপনাকে গুরুত্ব দেবে এবং মোর ওপেনলি কথা বলবে কারণ সে আপনাকে পটেনশিয়াল থ্রেট মনে করবে না।

৬. কো-ফাউন্ডারঃ


একথা অনস্বীকার্য যে, ভার্সিটির ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ততটা সমৃদ্ধ নয়, তবে যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আগামী দিনের সফল উদ্যোক্তারা এখন আপনার পাশে আছে এবং তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতা সম্বন্ধে ধারণা তৈরী হওয়ার আগেই আপনি তাদেরকে রিক্রুট করার সুযোগ পাচ্ছেন। কে জানে, নেক্সট জুকারবার্গ হয়তো ফিন্যান্স ক্লাসে আপনার পাশেই বিরশ বদনে বসে রয়েছে।

৭. কেরিয়ার বিল্ডিং:


যদি আপনার ব্যবসা সফল না-ও হয়, চাকরীর ক্ষেত্রে আপনি সহপাঠিদের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে থাকবেন। একটা বিজনেস শুরু করা প্রমাণ করে, আপনি অনেক প্রো-একটিভ, ক্রিয়েটিভ এবং সাহসী- যেইগুণগুলো একজন ইমপ্লয়ীর মাঝে খুজে পেতে চায় সফল কোম্পানীগুলো। উদ্যোক্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা চাকরীতে ভালো পারফরমেন্স করার ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখবে।

তো আর দেরী কেন, ভাই-বোনেরা। ঝাপিয়ে পড়ুন ব্যবসায়। এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

জ্ঞানী লোকের জ্ঞানী কথা

“আল্লাহপাক কুরআনে ব্যবসার কথা বলেছেন, বলেছেন, ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি’। আর কোন প্রফেশনের কথা বলেননি, বলেছেন ব্যবসার কথা। ব্যবসার মধ্যে যদি কল্যাণকর কিছু না থাকতো, তবে তিনি ব্যবসার কথা এভাবে বলতেন না!”

– প্রফেসর কামরুল আরেফিন, আইবিএ-জেইউ

গতকাল ক্লাস নিতে গিয়ে আরেফিন স্যারের সংস্পর্শে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল কিছুটা সময়। ইনিই তিনি যিনি ২০১০-১২ সালের দিকে ক্লাসে দেশের ইকোনমি নিয়ে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছিলেন, ৪-৫ বছর পর ঠিক তাই তাই হতে দেখেছি। স্যারের সাথে কাটানো সময়ের সদ্ব্যবহারের সেই সুযোগ তাই হেলায় হারাতে চাই নি। দেশের চলমান ইকোনমিক মন্দা অবস্থা নিয়ে স্যারের মতামত ও দিক নির্দেশনা জানার চেষ্টা করেছি। স্যার বরাবরই অপটিমিষ্টিক লোক, এবারও তিনি খুব বেশি হতাশার কথা শোনালেন না। স্যারের কিছু অবসারভেশন তুলে ধরছিঃ

1. বাংলাদেশ সারাবিশ্ব জুড়েই চলমান মন্দা অবস্থার স্বীকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যে দেশগুলোতে পণ্য যায়, ভারত, ইউএসএ- তারা নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে মন্দা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সেখানে চলছে পলিটিকাল অস্থিরতা। মন্দা অবস্থার পাশাপাশি এরকম পলিটিকাল আনরেষ্টের সময় মানুষজন টাকা বের করতে চায় না, একারণে ইকোনমি একটু প্রেশারে আছে। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও খাটে।

2. সরকার একসাথে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টে হাত দিয়েছে যেগুলোর কাজ এই সময়ে শেষ হবার কথা ছিল, হয় নি, আরও টাকা লাগছে। একারণে লিকুইড ক্রাইসিসে আছে। এটারও একটা প্রভাব পড়ছে ইকোনমিতে।

3. আমি দেশ থেকে টাকা বের হয়ে যাবার কথা বললাম, স্যার এক্ষেত্রেও খুব বেশী হতাশার বাণী শোনালেন না। বললেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখনও আসলে ফরেন মার্কেটে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট মরার মতো ক্যাপাবল হয়ে উঠে নি! কিছু টাকা চলে যাচ্ছে বাড়িঘর কেনার জন্য। আমাদের যেমন স্বপ্ন থাকে ঢাকার বুকে একটা বাড়ির, কিছু লোক নিউইয়র্কে বাড়ি করার স্বপ্ন লালন করে। গভমেন্ট ফরেন রেমিট্যান্স আসলে স্ট্রেটওয়ে ২% ক্যাশ বোনাস দিচ্ছে, এছাড়াও কেউ লোকাল কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে যে সুযোগ সুবিধা পাবে, ফরেন কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি সুবিধা পাচ্ছে। স্যার রেটোরিকালি বললেন, আমার যদি এই মুহূর্তে টাকা এবং সুযোগ-সুবিধা থাকতো, তাহলে আমিই তো টাকা পাঠিয়ে সেটা আবার ফরেন কারেন্সি হিসেবে দেশে আনতাম।

4. স্যার দেশের ইকোনমির চেয়ে বরং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তাঁর আশঙ্কা, আমরা না আবার নিজ দেশে পরবাসী হয়ে যাই, পড়াশোনা ও স্কিলে পিছিয়ে পড়ার কারণে। গার্মেন্টসগুলোতে ইতোমধ্যে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- টপ লেভেলে সব ফরেইনাররা আর লোয়ার এন্ডে সব বাঙ্গালী।

5. ইকোনমি নিয়ে খুব বেশি কনসার্ন না হয়ে নিজ বিজনেসে ফোকাস করার জন্য তাগাদা দিলেন স্যার। বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনে মনোযোগ দিতে বললেন। বড়মাছরা সব মাঠে নেমেছে, ছোট হয়ে টিকে থাকতে হলে বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনের কোন বিকল্প নেই।

বিজনেস করছি জেনে স্যার খুব খুশি হলেন এবং মনে দাগ কাটার মতো কিছু কথা বললেন, যার মধ্যে একটি প্রথমেই উল্লেখ করেছি। দেশের ইকোনমির অশনিসংকেত, ব্যবসার মন্দাবস্থা, ব্যবসায়ীদের হাহাকারের মাঝে স্যারের সাথে কাটানো সময়টি ছিল সত্যিকারের আশাজাগানিয়া কিছু মূহুর্ত। দুআ করি স্যারের এই প্রেডিকশন যেন সত্যি হয়, অন্ধকার টানেলের ওই প্রান্তে আলোর দেখা যেন সহসাই চোখে পড়ে।

** ইকোনমি নিয়ে স্যারের প্রেডিকশনগুলো একান্তই তাঁর ব্যাক্তিগত মতামত, যেগুলো নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ সবসময়ই আছে।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

৮ টি কারণ, কেন ছাত্রাবস্থায় ব্যবসা শুরু করা উচিত! (ভিডিও)

একজন স্টুডেন্ড অন্ট্রাপ্রেনার বিভিন্ন দিক দিয়ে রেগুলার অন্ট্রাপ্রেনারদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। কি কি সেই সুবিধা, কি কি সেই কারণ। সেগুলোই ভিডিওতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

রিটেইল এক্সপোর্ট

ব্যাগের পাশাপাশি যখন আমরা টি-শার্টের ব্রান্ড জোশ গিয়ার লঞ্চ করি, তখন মূলত দুটো কারণ ছিলো এর পেছনে। প্রথমত, ব্যাগের প্রিন্টিং আর টি-শার্টের প্রিন্টিং সলুশন ছিলো সেম- স্ক্রিন প্রিন্ট। স্ক্রিনপ্রিন্টকে ধরা হয়, ফ্যাব্রিক প্রিন্টের জন্য সেরা সলুশন হিসেবে। ব্যাগে প্রিন্ট করতে করতে আমরা সেই স্ক্রিন প্রিন্টে বেশ দক্ষতা অর্জন করি, সেটারই প্রতিফলন টি-শার্টেও ফেলে দেখি রেজাল্ট মা শা আল্লাহ খুব ভালো আসছে। ব্যস, আলোর মুখ দেখে জোশ গিয়ার।

দ্বিতীয় কারণ ছিলো, এক্সপোর্ট। ভেবে দেখলাম এই একটা প্রোডাক্টেই আমাদের এফিসিয়েন্সি এবং প্রাইস কম্পিটিটিভনেস সবচেয়ে বেশি। এতো অল্প টাকায় এতো ভালো প্রোডাক্ট বিশ্বের আর কারও পক্ষে বানানো সম্ভব না। এই প্রোডাক্টটা যদি আমরা রিটেইল প্রাইসে ইউরোপ আমেরিকায় এক্সপোর্ট করতে পারতাম থ্রো ই-কমার্স চ্যানেল লাইক আলি এক্সপ্রেস বা আলিবাবা। চায়না আজকের চায়না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ তাদের কটেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাক্ট তারা রিটেইল প্রাইসে সারা বিশ্ব পৌছাতে পারছে। বাংলাদেশে একটা ফিনিসড টি-শার্টের খরচ পড়ে দেড় থেকে দু ডলার। ইউরোপ আমেরিকায় সেটার রিটেইল প্রাইস ২০-২২ ডলার। (কমেন্টে একটা আমেরিকান টিশার্ট সাইটের স্ক্রিনশট দিলাম) আমরা যদি শিপিং খরচ সহ ৭-৮ ডলারে একটা টি-শার্ট ইউরোপ এ্যামেরিকার এন্ড ইউসারের কাছে পৌছাতে পারতাম- কতো বড় মনোপলি ওয়েট করছে আমাদের জন্য! কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। রিটেইলিং করতে পারলে এরা শুধু বেচেই যেত না, ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়ে যেত। মূলত এই উদ্দেশ্যেই জোশ গিয়ার শুরু করা এবং এখন পর্যন্ত এই আশায় টিকে থাকা। দারাজে একাউন্ট খুলেছিলামও মূলত এই কারণে। ভেবেছিলাম আলিএক্সপ্রেস যুক্ত হওয়াতে ব্যাপারটা দ্রুততর ও সহজতর হবে। কিন্তু আলি এক্স এক্সপোর্টের চেয়ে তাদের প্রোডাক্ট এদেশে ইম্পোর্টেই বেশি আগ্রহী। ই-ক্যাব নাকি এটা নিয়ে কাজ করছে। একটা কমিটিও নাকি করছে- ক্রস বর্ডার কমিটি। দেখা যাক, এটা কবে আলোর মুখ দেখে!

যতদিন রিটেইলিং আলোর মুখ না দেখে ততদিন একটা সমাধান হতে পারে F&F এর মাধ্যমে ছোট ছোট স্কেলে প্রোডাক্ট পাঠানো। ট্রাভেল করার সময় একটা পোটলা পাঠায় দিলাম, শুটকি, আলু, পোটল না নিয়ে তারা কিছু টি-শার্ট নিয়ে গেলো। বেচে উভয় পক্ষেরই কিছু নগদ নারায়ণ আসলো। হাস্যকর মনে হলেও এরকম একটা মডেলেই কিন্তু ব্যাগ প্যাকার্স দীর্ঘদিন ধরে দেশে এ্যামাজনের প্রোডাক্ট এ্যামেরিকা থেকে আনাচ্ছে। আমরাই তো বেশ কয়েকটা শিপমেন্ট পাঠালাম বিভিন্ন দেশে। সেদিন গেলো এ্যামেরিকায়, আজকেরগুলো যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে। মোনাশ ইউনিভার্সিটির মুসলিম একটা অর্গানাইজেশনের জন্য। এর আগেও মিডল ইস্ট, রাশিয়ায় গেছে আমাদের প্রোডাক্ট।

বিজনেসের একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডে আমরা অবস্থান করছি। রিটেইল স্টোর, মিডলম্যান, ট্রেডিং বিজনেস বিশ্বজুড়েই আজ হুমকির মুখে। আমেরিকা, ইউরোপে শয়ে শয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিটেইল স্টোর। পক্ষান্তরে যারা উৎপাদক, মৌলিক পণ্য নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে সম্ভাবনার অপার দুয়ার। কোনরকম মিডলম্যান, ট্রেডার ছাড়াই তারা সরাসরি পৌছাতে পারছে এ্যান্ড ইউসারের একদম দোড়গোড়ায় অনলাইনের বিভিন্ন রকম প্লাটফর্মের মাধ্যমে। গ্রাহক, উৎপাদক উভয়ই এতে উপকৃত হচ্ছে। দেরীতে হলেও আমাদের সামনেও রয়েছে এ সম্ভাবনা। সেদিন বেশি দূরে নয় নীলফামারীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন উৎপাদকের পণ্য সরাসরি পৌছে যাবে আমেরিকার ডালাসের একজন গ্রাহকের ঘরে। এইসময়ে তাই প্রোডাক্ট এক্সিলেন্সে মনোযোগ দেয়া দরকার, সাথে টিকে থাকা ও সুযোগ খুজতে থাকা। ইন শা আল্লাহ সুদিন আসবেই।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

৮ টি কারণ আপনি কেন চাকরীর পাশাপাশি ব্যবসা করবেন?

(নোক্তাঃ যাদের অফিসের বাইরে স্পেয়ার টাইম বের করা টাফ, যাদের মধ্যে ফাঁকিবাজির আদত আছে বা প্রফেশনালি কেরিয়ার গড়তে চান- ব্যবসায় অথবা চাকরীতে, তাদের জন্য এই পোষ্টটা না)

চাকরি এবং ব্যবসা, রুটি-রুজি অর্জনের দুটি প্রধানতম মাধ্যম। একটি সমাজে ব্যবসায়ীর যেমন দরকার রয়েছে, তেমনি দরকার রয়েছে চাকরীজীবিরও। সবাই যদি ব্যবসায়ী হয় তাহলে চাকরী করবে কে, ব্যবসাগুলো চালাবে কে? তাই চাকরী ও ব্যবসা কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং পরিপূরক। তবে প্রায় প্রতিটা মানুষেরই অন্তরে ব্যবসায়ী হবার একটা সুপ্ত, সুতীব্র বাসনা থাকে। পারিপার্শ্বিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণে অনেকেরই ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখানোর সুযোগ হয়ে উঠে না। আজীবন একটা অতৃপ্তি থেকেই যায়। তবে আপনি চাইলেই একটু উদ্যোগী হলেই কিন্তু চাকরীর পাশাপাশি একটা উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন। আমি নিজে অনেক বছর ধরে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করছি। আমার চারপাশে অনেককেই দেখছি চাকরি, ব্যবসা দুটোই সমানতালে চালিয়ে নিতে। এমনকি এদের মধ্যে কিছু ব্যাংকার, সেলস পারসন, গার্মেন্টস এমপ্লয়িকেও দেখছি দেশের কঠিনতম চাকরীর প্যারা সামলানোর পরও সফলভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিতে। ফেসবুক, ই-কমার্স, হোম ডেলিভারি সার্ভিস, সিসি ক্যামেরা- ব্যবসাকে এখন অনেক সহজ করে দিয়েছে। চাকরির পাশাপাশি কিভাবে ব্যবসা চালাবেন সে টিপস ইন শা আল্লাহ আরেকদিন শেয়ার করবো, আজ বলছি আপনি কেনো চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হবেন।

১) হারানোর কিছু নেইঃ

ব্যবসা মানেই রিস্ক- একথা কে না জানে। ব্যবসা করতে নেমে সর্বস্বান্ত খুইয়েছে এরকম উদাহরণ চারপাশে অনেক। আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায় নামেন তবে কিন্তু আপনার হারানোর তেমন কিছু নেই, ব্যবসা বন্ধ করে যা করছিলেন তাই অর্থাৎ চাকরি চালিয়ে নিতে পারবেন। রেগুলার ব্যবসায়ীর মতো পথের ফকির হতে হবে না। সাময়িক ধাক্কা হয়তো খাবেন, কিন্তু একেবারে থমকে যেতে হবে না। পক্ষান্তরে ব্যবসা সফল হলে আপনি হয়ে যাবেন হিরো, কেস স্টাডির নায়ক, অন্যের কাছে উদাহরণ।

২) সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারঃ

চাকরির হাক্ব হলো আপনি আপনার সর্বোচ্চ সময় অফিসকে দিবেন। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো, কোনরুপ ফাঁকি না দিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে প্রতিপালন করার পরও প্রায় প্রতিটা ডেস্কেই কিছু স্পেয়ার সময় পাওয়া যায় যেটা অধিকাংশ এমপ্লয়িরা তেলবাজি, গীবত, আড্ডাবাজি, অফিস পলিটিক্স বা ফেসবুক, ইউট্যুবে অপচয় করে। আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করেন তবে এভাবে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা আপনার হবে না। আপনি আপনার সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছেন দেশের উৎপাদনশীলতার পেছনে। আপনার এই শ্রমঘন্টার কন্ট্রিবিউশান দেশের জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে।

৩) বাড়তি ইনকামঃ

চাকরীজীবির ইনকাম নির্দিষ্ট। যে যত টাকা বেতনই পাক মাস শেষে একটা টানাটানির মধ্যে পড়ে যেতে হয়। এরকম সময় মনে হয়, ইশ একটা বাড়তি ইনকামের যদি কোন সুযোগ থাকতো। এই চাহিদার চক্রে পড়ে অনেকেই অবৈধ পথে পা বাড়ায়। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করলে পুরো মাস জুড়েই আপনার একটা ক্যাশ ফ্লো থাকবে, বাড়তি ইনকামের যে হাহাকার তা দূর হবে।

৪) জব ইনসিকিউরিটি দূর হবেঃ

চাকরি যাবার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতে হয় অধিকাংশ চাকরিজীবিকে। ‘চাকরী গেলে খাবো কি’, ‘বউ বাচ্চা নিয়ে পথে বসতে হবে’- এরকম একটা ভয় সবসময় কাজ করে। এই অনিরাপত্তার জন্য অফিসে সবসময় ছোট হয়ে থাকতে হয়, বসদের অনৈতিক, অহেতুক আদেশের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। ব্যবসা আপনার এই চাকরি অনিরাপত্তা দূর করে দিবে, নিজের ভেতরে পাবেন আলাদা আত্মবিশ্বাস।

৫) লার্ণিংঃ

ব্যবসার জন্য প্রচুর জিনিস শিখতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা বলি, ব্যাগের, টিশার্টের ডিজাইন করার জন্য আমাকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে হয়েছে, হিসাব-নিকাশের জন্য এক্সেল শিখতে হয়েছে ভালোমতো। এই লার্ণিংগুলো এখন আমার অফিসের কাজে লাগছে। আমার অফিসের অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ এখন আমি করে দেই। আবার উল্টাটাও আছে, আপনি হয়তো আপনার ব্যবসার একাউন্টসের একটা প্যাচ মিলাতে পারছেন না, সাহায্য নিতে পারেন আপনার অফিসের অভিজ্ঞ একাউন্টেন্টের বা আইটির কোন বিষয়ে সাহায্য নিতে পারেন আইটি সেকশনের কারও।

৬) কর্পোরেট কালচারঃ

অধিকাংশ ছোট ব্যবসায় দেখবেন কোন কর্পোরেট কালচার থাকে না, এমপ্লয়ি মোটিভেশান থাকে একদম তলানিতে। আপনি যেহেতু তুলনামূলক একটা বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, এখান থেকে শেখা কর্পোরেট কালচার আপনি আপনার তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবেন। এমপ্লয়ি মোটিভেশান ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারবেন অনেকগুণ, সুইচ রেট কমিয়ে আনতে পারবেন অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

৭) নেটওয়ার্কঃ

চাকরি করলে সাপ্লায়ার এবং কাস্টমার দুটো এন্ডেই নেটওয়ার্কটা অনেক বড় থাকে। অফিসের বিশাল কলিগশ্রেণি হতে পারে আপনার পটেনশিয়াল কাষ্টমার আবার অনেক সাপ্লায়ার থেকেও উপকৃত হতে পারেন, কাজে লাগাতে পারেন নিজের ব্যবসায়।

৮) সোশালাইজিংঃ

শুধু চাকরি করলে কেমন যেন একটা ঘরকুনো ভাব চলে আসে। চাকরি- অফিস- ঘর; অনেক আড্ডাবাজ, মিশুক লোককেও দেখেছি এই চক্রে হারিয়ে যেতে। ব্যবসা করলে নিজ গরজেই সোশালাইজিং করতে হয়। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সাথে সোশালাইজিং ব্যবসায়ীর চেয়ে বেশী আর কেউ করতে পারে না। কদিনই বা বাঁচবেন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সাথে মিলেমিশে চললেন, মাঝখান দিয়ে ব্যবসাও হলো।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাধীনতা, আর্থিক স্বচ্ছলতা – ব্যবসার এই কমন জিনিসগুলো টানলাম না, কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে, এইগুলো সবাই জানি। মোদ্দাকথা হলো, আপনার অন্তরে যদি একটা ব্যবসায়িক স্বত্বা লুক্কায়িত থাকে, অফিসে যদি কিছু অবসর সময় পান, আপনার পটেনশিয়ালস যদি আরও বড় পরিসরে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান, দেশের উৎপাদনশীলতায় যদি অবদান রাখতে চান আরও বড় পরিসরে ; চাকরির পাশাপাশি একটা ব্যবসা শুরু করতেই পারেন। এপথ অনেক বন্ধুর কিন্তু অসম্ভব নয়। উদাহরণ রয়েছে ভূড়ি ভূড়ি। আপনার টিভি দেখার, খেলা দেখার, নেটফ্লিক্সের, ইউটিউবিংয়ের সময় হয়তো এতে কাট হবে কিন্তু ট্রাষ্ট মি দিনশেষে যে প্রশান্তি, আত্মতৃপ্তি পাবেন তার সাথে কোনকিছুর তুলনা হবে না। আপনার দ্বারা দেশ, সমাজ, অর্থনীতি উপকৃত হবে আরও ব্যাপকভাবে।