এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়!

entrepreneur
Share This:

এই লেখাটা মূলত যারা এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পড়াশুনা করছে, তাদের জন্য। বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম ক্যাম্পাসভিত্তিক একটা বিজনেস ফোরামের জন্য। গতবার আইবিএ-জেইউ তে একটা ক্লাসও নিয়েছিলাম এই টপিকের উপর। ভাবলাম সবার সাথে শেয়ার করি আর্টিকেলটা।

ক্যাম্পাসে পড়াশুনার ফাঁকে অনেক অফ-টাইম পাওয়া যায়। একেকজন একেকভাবে সময়গুলোকে ব্যয় করে। কেউ মুভি দেখে, কেউ গান শুনে, কেউ খেলাধুলায়। কতই না ভালো হয়, কেউ যদি এই সময়গুলোকে ব্যবসার জন্য কাজে লাগায়। এখন অনেকেই ছাত্রাবস্থাতেই বিভিন্ন উদ্যোগে জড়িয়ে পড়ছে, এটা খুবই ভালো একটা দিক। একসময়ে ক্যাম্পাসে বিজনেস শুরু করা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সে তুলনায় ক্যাম্পাসগুলো এখন অনেক ব্যবসা বান্ধব। এছাড়া অনলাইন প্লাটফর্ম-ও ব্যবসার এন্ট্রি ব্যারিয়ারগুলো অনেক কমিয়েছে। এখন অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় ব্যবসা শুরু করা সহজ।

ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের নিয়ে অসাধারণ একটা আর্টিকেল পড়লাম। আমাদের ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের জন্য সেটা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। বিদেশী আর্টিকেলে দেশী মালমশলা যোগ করে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনের। কেন হবেন ক্যাম্পাস উদ্যোক্তা? আসুন জেনে নেইঃ

১. লো রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড:


ক্যাম্পাস স্টার্ট আপ এ আসলে হারানোর কিছু নেই। সবচেয়ে খারাপ সিনারিও হচ্ছে, আপনি যেটা করছেন সেটাতে অর্থ্যাৎ পড়াশুনায় ফিরে যেতে হবে। পক্ষান্তরে যদি ব্যবসা সফল হয় তো আপনি ক্যাম্পাস হিরো, রোল মডেল, ক্লাস লেকচারের কেস স্টাডি। ক্যাম্পাসের ৫-৬ বছরের জীবনে প্রতি বছর সিরিয়াস ভেঞ্চার শুরু করার সুযোগ রয়েছে এবং পরবর্তী ১২ মাস সেটাকে ইভালুয়েশনের সুযোগ থাকছে, যে এটা কাজ করছে কিনা। কেউ হয়তো প্রথম বারই সফল হবে, কেউ ঘুরে দাড়াবে অথবা ত্যাগ করবে এবং নতুন কিছু শুরু করবে।

২. ক্যাম্পাস রিসোর্সঃ


কিছুদিন আগে সরকারের একটা আইটি প্রজেক্টের ওয়ার্কশপে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, সেখানে কী নোট স্পীকার ছিলো, জাহাঙ্গীরনগরের সিএসই ডিপার্টমেন্টের এক অধ্যাপক। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এরকম রিসোর্স পারসনদের দুয়ারে আমাদের কিরকম অবাধ এক্সেস! অধিকাংশ শিক্ষকই যে-কোন পজিটিভ ছাত্র উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে ভালোবাসেন। ঠিকভাবে এপ্রোচ করলে আপনার খুব ছোট উদ্যোগেও তাঁরা যুক্ত হতে দ্বিধা করবেন না। আমাদের এক স্যার ক্লাসে বাংলাদেশের ইকোনমি ও বিজনেস নিয়ে যে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছেন, ৬-৭ বছর পর এসে ঠিক সেরকম হতে দেখছি!

৩. রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইডুকেশনঃ


পুথিগত বিদ্যা ও বাস্তব জীবনের বিরাট সেতুবন্ধন হচ্ছে ব্যবসা। ক্লাসের পড়া শেষ করে আসার পরও বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার তাগিদে কখনও কটলারের বই, কখনও বা একাউন্টিংয়ের বইটা খুলে একাউন্টিং প্রিন্সিপালসগুলো দেখে নিতে হয়। ছাত্র-ব্যবসায়ীরা তাদের বুকিশ জ্ঞানগুলোকে যেমন ব্যবসায় লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের একাডেমিক লার্ণিও অনেক কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। এপ্রসঙ্গে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিয়র জর্ডান গুনেন এর একটি উক্তি তুলে ধরছি,: “যদিও ব্যবসা শুরু করা ক্লাসরুম লেসনের চেয়ে ১০০গুণ কঠিন, তবে টেক্সট বুক লেসনের চেয়েও এতে ১০০ গুণ বেশী শেখা যায়।

৪. সহজপ্রাপ্য কাষ্টমারঃ


অধিকাংশ কোম্পানী তাদের প্রোডাক্ট বা আইডিয়া টেষ্টিং এর জন্য ইয়ুথদের বেছে নেয়। ছাত্রাবস্থায় আমিও অনেক কোম্পানীর ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে গিয়েছিলাম। ইয়ুথরা হলো যেকোন এক্সপেরিমেন্ট করার আদর্শ সেগমেন্ট। কেতাবী ভাষায় বলা হয়, ‘আরলি এডপটার’। ক্যাম্পাস এন্টারপ্রেনিয়ররা খুব সহজেই তাদের প্রোডাক্ট, আইডিয়া বন্ধুদের মাঝে, সিনিয়র, জুনিয়রদের মাঝে টেষ্ট করতে পারে। এছাড়া বর্তমানে ফেসবুকের যুগে যে কোন বিষয়কে ভাইরাল করা বা ট্রেন্ড তৈরীর পেছনে ইয়ুথরা বড় ভূমিকা রাখে।

৫. মেনটরিং:


স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় যেকারও কাছে এ্যাক্সেস পাওয়া যায়। কেউ যদি কোন কোম্পানির CEO/CEO’র পিএসকে ফোন দিয়ে বলে যে, “আমি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি এবং একটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি এবং আপনার কাছ থেকে পরামর্শ পেতে চাই”, তাহলে খুব কম মানুষই আছে, এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে। সফল উদ্যোক্তারা তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিতে ভালোবাসেন। তারা অন্য যেকারও চেয়ে আপনাকে গুরুত্ব দেবে এবং মোর ওপেনলি কথা বলবে কারণ সে আপনাকে পটেনশিয়াল থ্রেট মনে করবে না।

৬. কো-ফাউন্ডারঃ


একথা অনস্বীকার্য যে, ভার্সিটির ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ততটা সমৃদ্ধ নয়, তবে যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আগামী দিনের সফল উদ্যোক্তারা এখন আপনার পাশে আছে এবং তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতা সম্বন্ধে ধারণা তৈরী হওয়ার আগেই আপনি তাদেরকে রিক্রুট করার সুযোগ পাচ্ছেন। কে জানে, নেক্সট জুকারবার্গ হয়তো ফিন্যান্স ক্লাসে আপনার পাশেই বিরশ বদনে বসে রয়েছে।

৭. কেরিয়ার বিল্ডিং:


যদি আপনার ব্যবসা সফল না-ও হয়, চাকরীর ক্ষেত্রে আপনি সহপাঠিদের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে থাকবেন। একটা বিজনেস শুরু করা প্রমাণ করে, আপনি অনেক প্রো-একটিভ, ক্রিয়েটিভ এবং সাহসী- যেইগুণগুলো একজন ইমপ্লয়ীর মাঝে খুজে পেতে চায় সফল কোম্পানীগুলো। উদ্যোক্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা চাকরীতে ভালো পারফরমেন্স করার ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখবে।

তো আর দেরী কেন, ভাই-বোনেরা। ঝাপিয়ে পড়ুন ব্যবসায়। এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *