৮ টি কারণ আপনি কেন চাকরীর পাশাপাশি ব্যবসা করবেন?

Job Vs Business
Share This:

(নোক্তাঃ যাদের অফিসের বাইরে স্পেয়ার টাইম বের করা টাফ, যাদের মধ্যে ফাঁকিবাজির আদত আছে বা প্রফেশনালি কেরিয়ার গড়তে চান- ব্যবসায় অথবা চাকরীতে, তাদের জন্য এই পোষ্টটা না)

চাকরি এবং ব্যবসা, রুটি-রুজি অর্জনের দুটি প্রধানতম মাধ্যম। একটি সমাজে ব্যবসায়ীর যেমন দরকার রয়েছে, তেমনি দরকার রয়েছে চাকরীজীবিরও। সবাই যদি ব্যবসায়ী হয় তাহলে চাকরী করবে কে, ব্যবসাগুলো চালাবে কে? তাই চাকরী ও ব্যবসা কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং পরিপূরক। তবে প্রায় প্রতিটা মানুষেরই অন্তরে ব্যবসায়ী হবার একটা সুপ্ত, সুতীব্র বাসনা থাকে। পারিপার্শ্বিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণে অনেকেরই ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখানোর সুযোগ হয়ে উঠে না। আজীবন একটা অতৃপ্তি থেকেই যায়। তবে আপনি চাইলেই একটু উদ্যোগী হলেই কিন্তু চাকরীর পাশাপাশি একটা উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন। আমি নিজে অনেক বছর ধরে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করছি। আমার চারপাশে অনেককেই দেখছি চাকরি, ব্যবসা দুটোই সমানতালে চালিয়ে নিতে। এমনকি এদের মধ্যে কিছু ব্যাংকার, সেলস পারসন, গার্মেন্টস এমপ্লয়িকেও দেখছি দেশের কঠিনতম চাকরীর প্যারা সামলানোর পরও সফলভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিতে। ফেসবুক, ই-কমার্স, হোম ডেলিভারি সার্ভিস, সিসি ক্যামেরা- ব্যবসাকে এখন অনেক সহজ করে দিয়েছে। চাকরির পাশাপাশি কিভাবে ব্যবসা চালাবেন সে টিপস ইন শা আল্লাহ আরেকদিন শেয়ার করবো, আজ বলছি আপনি কেনো চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হবেন।

১) হারানোর কিছু নেইঃ

ব্যবসা মানেই রিস্ক- একথা কে না জানে। ব্যবসা করতে নেমে সর্বস্বান্ত খুইয়েছে এরকম উদাহরণ চারপাশে অনেক। আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায় নামেন তবে কিন্তু আপনার হারানোর তেমন কিছু নেই, ব্যবসা বন্ধ করে যা করছিলেন তাই অর্থাৎ চাকরি চালিয়ে নিতে পারবেন। রেগুলার ব্যবসায়ীর মতো পথের ফকির হতে হবে না। সাময়িক ধাক্কা হয়তো খাবেন, কিন্তু একেবারে থমকে যেতে হবে না। পক্ষান্তরে ব্যবসা সফল হলে আপনি হয়ে যাবেন হিরো, কেস স্টাডির নায়ক, অন্যের কাছে উদাহরণ।

২) সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারঃ

চাকরির হাক্ব হলো আপনি আপনার সর্বোচ্চ সময় অফিসকে দিবেন। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো, কোনরুপ ফাঁকি না দিয়ে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে প্রতিপালন করার পরও প্রায় প্রতিটা ডেস্কেই কিছু স্পেয়ার সময় পাওয়া যায় যেটা অধিকাংশ এমপ্লয়িরা তেলবাজি, গীবত, আড্ডাবাজি, অফিস পলিটিক্স বা ফেসবুক, ইউট্যুবে অপচয় করে। আপনি যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করেন তবে এভাবে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা আপনার হবে না। আপনি আপনার সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছেন দেশের উৎপাদনশীলতার পেছনে। আপনার এই শ্রমঘন্টার কন্ট্রিবিউশান দেশের জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে।

৩) বাড়তি ইনকামঃ

চাকরীজীবির ইনকাম নির্দিষ্ট। যে যত টাকা বেতনই পাক মাস শেষে একটা টানাটানির মধ্যে পড়ে যেতে হয়। এরকম সময় মনে হয়, ইশ একটা বাড়তি ইনকামের যদি কোন সুযোগ থাকতো। এই চাহিদার চক্রে পড়ে অনেকেই অবৈধ পথে পা বাড়ায়। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করলে পুরো মাস জুড়েই আপনার একটা ক্যাশ ফ্লো থাকবে, বাড়তি ইনকামের যে হাহাকার তা দূর হবে।

৪) জব ইনসিকিউরিটি দূর হবেঃ

চাকরি যাবার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতে হয় অধিকাংশ চাকরিজীবিকে। ‘চাকরী গেলে খাবো কি’, ‘বউ বাচ্চা নিয়ে পথে বসতে হবে’- এরকম একটা ভয় সবসময় কাজ করে। এই অনিরাপত্তার জন্য অফিসে সবসময় ছোট হয়ে থাকতে হয়, বসদের অনৈতিক, অহেতুক আদেশের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। ব্যবসা আপনার এই চাকরি অনিরাপত্তা দূর করে দিবে, নিজের ভেতরে পাবেন আলাদা আত্মবিশ্বাস।

৫) লার্ণিংঃ

ব্যবসার জন্য প্রচুর জিনিস শিখতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা বলি, ব্যাগের, টিশার্টের ডিজাইন করার জন্য আমাকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে হয়েছে, হিসাব-নিকাশের জন্য এক্সেল শিখতে হয়েছে ভালোমতো। এই লার্ণিংগুলো এখন আমার অফিসের কাজে লাগছে। আমার অফিসের অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ এখন আমি করে দেই। আবার উল্টাটাও আছে, আপনি হয়তো আপনার ব্যবসার একাউন্টসের একটা প্যাচ মিলাতে পারছেন না, সাহায্য নিতে পারেন আপনার অফিসের অভিজ্ঞ একাউন্টেন্টের বা আইটির কোন বিষয়ে সাহায্য নিতে পারেন আইটি সেকশনের কারও।

৬) কর্পোরেট কালচারঃ

অধিকাংশ ছোট ব্যবসায় দেখবেন কোন কর্পোরেট কালচার থাকে না, এমপ্লয়ি মোটিভেশান থাকে একদম তলানিতে। আপনি যেহেতু তুলনামূলক একটা বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, এখান থেকে শেখা কর্পোরেট কালচার আপনি আপনার তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবেন। এমপ্লয়ি মোটিভেশান ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারবেন অনেকগুণ, সুইচ রেট কমিয়ে আনতে পারবেন অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

৭) নেটওয়ার্কঃ

চাকরি করলে সাপ্লায়ার এবং কাস্টমার দুটো এন্ডেই নেটওয়ার্কটা অনেক বড় থাকে। অফিসের বিশাল কলিগশ্রেণি হতে পারে আপনার পটেনশিয়াল কাষ্টমার আবার অনেক সাপ্লায়ার থেকেও উপকৃত হতে পারেন, কাজে লাগাতে পারেন নিজের ব্যবসায়।

৮) সোশালাইজিংঃ

শুধু চাকরি করলে কেমন যেন একটা ঘরকুনো ভাব চলে আসে। চাকরি- অফিস- ঘর; অনেক আড্ডাবাজ, মিশুক লোককেও দেখেছি এই চক্রে হারিয়ে যেতে। ব্যবসা করলে নিজ গরজেই সোশালাইজিং করতে হয়। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সাথে সোশালাইজিং ব্যবসায়ীর চেয়ে বেশী আর কেউ করতে পারে না। কদিনই বা বাঁচবেন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সাথে মিলেমিশে চললেন, মাঝখান দিয়ে ব্যবসাও হলো।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাধীনতা, আর্থিক স্বচ্ছলতা – ব্যবসার এই কমন জিনিসগুলো টানলাম না, কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে, এইগুলো সবাই জানি। মোদ্দাকথা হলো, আপনার অন্তরে যদি একটা ব্যবসায়িক স্বত্বা লুক্কায়িত থাকে, অফিসে যদি কিছু অবসর সময় পান, আপনার পটেনশিয়ালস যদি আরও বড় পরিসরে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান, দেশের উৎপাদনশীলতায় যদি অবদান রাখতে চান আরও বড় পরিসরে ; চাকরির পাশাপাশি একটা ব্যবসা শুরু করতেই পারেন। এপথ অনেক বন্ধুর কিন্তু অসম্ভব নয়। উদাহরণ রয়েছে ভূড়ি ভূড়ি। আপনার টিভি দেখার, খেলা দেখার, নেটফ্লিক্সের, ইউটিউবিংয়ের সময় হয়তো এতে কাট হবে কিন্তু ট্রাষ্ট মি দিনশেষে যে প্রশান্তি, আত্মতৃপ্তি পাবেন তার সাথে কোনকিছুর তুলনা হবে না। আপনার দ্বারা দেশ, সমাজ, অর্থনীতি উপকৃত হবে আরও ব্যাপকভাবে।

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *