Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

ব্রান্ড নেম দেয়ার সময় কি কি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিৎ

মোহাম্মদপুরে আমার যাওয়া আসার রাস্তায় প্রতিনিয়ত একটা বিরিয়ানির দোকান চোখে পড়ে, নাম ধরা যাক “বিরিয়ানি বাজার”। দোকানের অবস্থা যে ভালো না, শূন্য চেয়ারগুলোই তার সাক্ষি। প্রতিদিন দোকানটা পার হই আর নিজেকেই প্রশ্ন করি, দোকানটা চলে না কেনো?!? আবাসিক এরিয়ার মাঝখানে এরকম একটা খাবারের দোকান না চলার কোন কারণই নেই। আশেপাশেও কোন খাবারের দোকান নেই। চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, এই দোকানের নামটাই হলো এর আসল সমস্যা। স্পেসিফিক প্রোডাক্ট ওয়াইজ ব্রান্ড নেম হওয়াতে কাষ্টমাররা এ দোকানে বিরিয়ানীর বাইরে অন্য কিছু পাওয়া যায় ভাবতে পারে না, মালিকপক্ষও বিরিয়ানির পাশাপাশি অন্য কিছু নামিয়ে বিজনেস ডাইভার্সিফাই করার কথা চিন্তা করতে পারে না।

আজকের সকালটা শুরুই হয়েছে তাজাফল নিয়ে এই স্ক্রিনশটগুলো দেখে হাসতে হাসতে। তাজাফল এখন সবার কাছে তোফাজ্জল ভাইয়ে পরিণত হয়েছে, কারও কাছেবা আবার ‘তাজা পাখি’তে।

ওদের পেজ ঘুরে এবং ওদের ব্যাখ্যা শুনে যেটা বুঝলাম তাজা ফল বিশুদ্ধ খাবার নিয়ে কাজ করছে, শুরুতে ফল নিয়ে শুরু করলেও এখন অন্যান্য খাবার নিয়েও কাজ করছে। বিশুদ্ধ খাবার নিয়ে এরকম অনেকেই কাজ করছে, কিন্তু তাজাফলের মতো এরকম মানুষের ট্রলের স্বীকার হতে হয় নি অন্যদের। তাজাফলে তাজা মোরগ পাওয়া যায়, এ জিনিসটা আসলে মানুষ নিতে পারে না, ব্রান্ড নেমের সাথে প্রোডাক্ট টাইপ যায়ও না।

একারণে আমি প্রোডাক্ট টাইপ অনুযায়ী ব্রান্ড নেম সিলেকশনের একেবারেই বিরোধী। “ফুলকে তুমি যে নামেই ডাকো, সৌরভ ছড়াবেই” – যতই এধরণের বাগধারা ব্যাকরণ বইয়ে থাকুক, ব্রান্ড নেম একটা বিজনেসের জন্য খুবই ভাইটাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষজন যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিয়ে বিজনেস শুরু করে, সেটাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে প্রোডাক্ট দিয়ে বিজনেস শুরু করা হয়, ডাইভার্সিফাই হতে হতে কিছুদিন পর সেটার আর অস্তিত্বই থাকে না। এখন আপনি যদি আপনার সেই শুরুর প্রোডাক্টের ধরণ দিয়ে বিজনেসের নামকরণ করেন, তাহলে কিন্তু ডাইভার্সিফাই করা খুবই টাফ এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। তাজাফলের মতো তোফাজ্জল ভাইয়ে পরিণত হতে হবে তখন।

ধরুণ আপনি ইসলামিক টিশার্ট নিয়ে বিজনেস শুরু করলেন, এবং ব্রান্ডের নাম দিলেন, “বেষ্ট ইসলামিক টিশার্ট বিডি ডট কম”। এভাবে নাম দেয়াতে আপনি শুরুতে আপনার টার্গেট মার্কেটের কাছে সহজে পৌছাতে পারলেও, এরকম নামের মাধ্যমে আপনি কিছু জিনিস নির্দিষ্ট করে ফেললেন, যা পরবর্তীতে আপনার বিজনেস ডাইভার্সিফিকেশনের জন্য অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। এই নামের মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট করলেনঃ

– আপনার এটা একটা বাংলাদেশী ব্রান্ড

– এটা অনলাইন ব্রান্ড

– এটা টিশার্ট নিয়ে কাজ করে

– এখানে ইসলামিক টিশার্ট পাওয়া যায়।

এখন আপনার কাছে একটা অপরচুনিটি আসলো বিদেশে টিশার্ট সেল করার বা ইসলামিক টিশার্ট এর পাশাপাশি অন্য সেগমেন্ট বা নীশের জন্যও টিশার্ট আনবেন, আপনি কিন্তু আপনার নামের কাছেই ধরা খেয়ে গেলেন। একারণে নাম সিলেকশনের ব্যাপারে সতর্ক হোন, ব্রড নাম রাখুন। নামের কারণে যেন কোন উইন্ডো বন্ধ না হয় বা কোন অপরচিউনিটি নষ্ট না হয়।