Categories
সাম্প্রতিক

সামনের দুই সপ্তাহ ভয়ংকর

কেউ কি আমাকে বলবেন করোনার এই “সামনের দুই সপ্তাহ ভয়ংকর” এইটা কবে শেষ হবে? সেই মধ্য মার্চ থেকে শুনে আসতেছি কথাটা!

মার্কেটিয়াররা বেশ কিছু ইমোশন নিয়ে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্যাম্পেইন করে, যেমন লাভ, সেক্সুয়্যালিটি, হিউমার ইত্যাদি। এর মধ্যে একটা হচ্ছে ফিয়ার মার্কেটিং। ভয় দেখিয়ে তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কনজিউম করানো। কিছুদিন আগে এইরকম ক্যাম্পেইন ছিল অর্গানিক ফুড নিয়ে যেটা এখনো চলছে। বাজারের খাবারে ভেজাল, বীষ অমুক তমুক বলে নিজের প্রোডাক্টের দ্বিগুণ দামে মার্কেটিং করা।

এই কোভিড নিয়ে শুরু থেকেই চলছে ফিয়ার মার্কেটিং। সেই মধ্য মার্চ থেকে শুরু হইছে, ‘সামনের দুই সপ্তাহ খুব ভয়ংকর’।

কোভিড নিয়ে সবচেয়ে বেনিফিশিয়াল মেডিকেল সেক্টর। ডাক্তাররা রীতিমতো সোশ্যাল সেলিব্রেটি। আর্থিক দিক দিয়ে বেনিফিসিয়াল না হলেও তাদের অনেকেই (আই রিপিট “অ-নে-কে-ই”, সবাই না কিন্তু, সো ডাক্তার ভাইবোনদের নিজেদের গায়ে এটা টেনে নেয়ার দরকার নাই) চাচ্ছে এই ফিয়ার মঙ্গারিংটা থাকুক। এ কারণেই এই সামনের দুই সপ্তাহ শেষই হচ্ছে না। একেক সময় একেক গাউস কুতুব এসে বানী দিয়ে যাচ্ছে আমরা এখন পিকে আছি, দশ নম্বর বিপদ সংকেত!

এই যে ওরা ভবিষ্যৎ বানী করছে, কিসের ভিত্তিতে করছে, সামনের দুই সপ্তাহ ভয়ংকর। তাদের কাছে কী ডেটা আছে? আমরা এখন পিকে আছি না বটমে আছি কিভাবে জানলো তারা? কোভিড ন্যুইয়র্কে যে আচরণ করছে, বাংলাদেশে কি সেরকম করছে বা চায়নাতে বা তুরস্কে? কোন ডেটার বলে তারা বলছেন সামনের ভয়ংকর দু সপ্তাহ। এব্যাপারে আমার নলেজ আর তার নলেজ তো একই রকম, দুজনই অন্ধকারে! হুদাই দুই সপ্তাহ দুই সপ্তাহ ধরে চিল্লাইতেছে সেই আড়াই মাস ধরে!

লক ডাউন তো ট্রিটমেন্ট না। লক ডাউন দিয়ে কি আপনি কোভিড ভালো করে ফেলবেন? কতদিন চালাবেন লক ডাউন ছয়মাস, একবছর, দুইবছর। এখন তো বলছেন কোভিড নিয়েই আমাদের সামনে চলতে হবে। আর প্রোপার ওয়েতে তো লক ডাউন করতেও পারছেন না। খামাখা আর এইসব বলে গরীব মারার ইন্ধন জোগাইয়েন না।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়!

এই লেখাটা মূলত যারা এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পড়াশুনা করছে, তাদের জন্য। বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম ক্যাম্পাসভিত্তিক একটা বিজনেস ফোরামের জন্য। গতবার আইবিএ-জেইউ তে একটা ক্লাসও নিয়েছিলাম এই টপিকের উপর। ভাবলাম সবার সাথে শেয়ার করি আর্টিকেলটা।

ক্যাম্পাসে পড়াশুনার ফাঁকে অনেক অফ-টাইম পাওয়া যায়। একেকজন একেকভাবে সময়গুলোকে ব্যয় করে। কেউ মুভি দেখে, কেউ গান শুনে, কেউ খেলাধুলায়। কতই না ভালো হয়, কেউ যদি এই সময়গুলোকে ব্যবসার জন্য কাজে লাগায়। এখন অনেকেই ছাত্রাবস্থাতেই বিভিন্ন উদ্যোগে জড়িয়ে পড়ছে, এটা খুবই ভালো একটা দিক। একসময়ে ক্যাম্পাসে বিজনেস শুরু করা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সে তুলনায় ক্যাম্পাসগুলো এখন অনেক ব্যবসা বান্ধব। এছাড়া অনলাইন প্লাটফর্ম-ও ব্যবসার এন্ট্রি ব্যারিয়ারগুলো অনেক কমিয়েছে। এখন অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় ব্যবসা শুরু করা সহজ।

ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের নিয়ে অসাধারণ একটা আর্টিকেল পড়লাম। আমাদের ক্যাম্পাস উদ্যোক্তাদের জন্য সেটা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। বিদেশী আর্টিকেলে দেশী মালমশলা যোগ করে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনের। কেন হবেন ক্যাম্পাস উদ্যোক্তা? আসুন জেনে নেইঃ

১. লো রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড:


ক্যাম্পাস স্টার্ট আপ এ আসলে হারানোর কিছু নেই। সবচেয়ে খারাপ সিনারিও হচ্ছে, আপনি যেটা করছেন সেটাতে অর্থ্যাৎ পড়াশুনায় ফিরে যেতে হবে। পক্ষান্তরে যদি ব্যবসা সফল হয় তো আপনি ক্যাম্পাস হিরো, রোল মডেল, ক্লাস লেকচারের কেস স্টাডি। ক্যাম্পাসের ৫-৬ বছরের জীবনে প্রতি বছর সিরিয়াস ভেঞ্চার শুরু করার সুযোগ রয়েছে এবং পরবর্তী ১২ মাস সেটাকে ইভালুয়েশনের সুযোগ থাকছে, যে এটা কাজ করছে কিনা। কেউ হয়তো প্রথম বারই সফল হবে, কেউ ঘুরে দাড়াবে অথবা ত্যাগ করবে এবং নতুন কিছু শুরু করবে।

২. ক্যাম্পাস রিসোর্সঃ


কিছুদিন আগে সরকারের একটা আইটি প্রজেক্টের ওয়ার্কশপে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, সেখানে কী নোট স্পীকার ছিলো, জাহাঙ্গীরনগরের সিএসই ডিপার্টমেন্টের এক অধ্যাপক। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। এরকম রিসোর্স পারসনদের দুয়ারে আমাদের কিরকম অবাধ এক্সেস! অধিকাংশ শিক্ষকই যে-কোন পজিটিভ ছাত্র উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে ভালোবাসেন। ঠিকভাবে এপ্রোচ করলে আপনার খুব ছোট উদ্যোগেও তাঁরা যুক্ত হতে দ্বিধা করবেন না। আমাদের এক স্যার ক্লাসে বাংলাদেশের ইকোনমি ও বিজনেস নিয়ে যে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছেন, ৬-৭ বছর পর এসে ঠিক সেরকম হতে দেখছি!

৩. রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইডুকেশনঃ


পুথিগত বিদ্যা ও বাস্তব জীবনের বিরাট সেতুবন্ধন হচ্ছে ব্যবসা। ক্লাসের পড়া শেষ করে আসার পরও বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার তাগিদে কখনও কটলারের বই, কখনও বা একাউন্টিংয়ের বইটা খুলে একাউন্টিং প্রিন্সিপালসগুলো দেখে নিতে হয়। ছাত্র-ব্যবসায়ীরা তাদের বুকিশ জ্ঞানগুলোকে যেমন ব্যবসায় লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের একাডেমিক লার্ণিও অনেক কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। এপ্রসঙ্গে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিয়র জর্ডান গুনেন এর একটি উক্তি তুলে ধরছি,: “যদিও ব্যবসা শুরু করা ক্লাসরুম লেসনের চেয়ে ১০০গুণ কঠিন, তবে টেক্সট বুক লেসনের চেয়েও এতে ১০০ গুণ বেশী শেখা যায়।

৪. সহজপ্রাপ্য কাষ্টমারঃ


অধিকাংশ কোম্পানী তাদের প্রোডাক্ট বা আইডিয়া টেষ্টিং এর জন্য ইয়ুথদের বেছে নেয়। ছাত্রাবস্থায় আমিও অনেক কোম্পানীর ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে গিয়েছিলাম। ইয়ুথরা হলো যেকোন এক্সপেরিমেন্ট করার আদর্শ সেগমেন্ট। কেতাবী ভাষায় বলা হয়, ‘আরলি এডপটার’। ক্যাম্পাস এন্টারপ্রেনিয়ররা খুব সহজেই তাদের প্রোডাক্ট, আইডিয়া বন্ধুদের মাঝে, সিনিয়র, জুনিয়রদের মাঝে টেষ্ট করতে পারে। এছাড়া বর্তমানে ফেসবুকের যুগে যে কোন বিষয়কে ভাইরাল করা বা ট্রেন্ড তৈরীর পেছনে ইয়ুথরা বড় ভূমিকা রাখে।

৫. মেনটরিং:


স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় যেকারও কাছে এ্যাক্সেস পাওয়া যায়। কেউ যদি কোন কোম্পানির CEO/CEO’র পিএসকে ফোন দিয়ে বলে যে, “আমি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি এবং একটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি এবং আপনার কাছ থেকে পরামর্শ পেতে চাই”, তাহলে খুব কম মানুষই আছে, এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে। সফল উদ্যোক্তারা তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিতে ভালোবাসেন। তারা অন্য যেকারও চেয়ে আপনাকে গুরুত্ব দেবে এবং মোর ওপেনলি কথা বলবে কারণ সে আপনাকে পটেনশিয়াল থ্রেট মনে করবে না।

৬. কো-ফাউন্ডারঃ


একথা অনস্বীকার্য যে, ভার্সিটির ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ততটা সমৃদ্ধ নয়, তবে যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আগামী দিনের সফল উদ্যোক্তারা এখন আপনার পাশে আছে এবং তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতা সম্বন্ধে ধারণা তৈরী হওয়ার আগেই আপনি তাদেরকে রিক্রুট করার সুযোগ পাচ্ছেন। কে জানে, নেক্সট জুকারবার্গ হয়তো ফিন্যান্স ক্লাসে আপনার পাশেই বিরশ বদনে বসে রয়েছে।

৭. কেরিয়ার বিল্ডিং:


যদি আপনার ব্যবসা সফল না-ও হয়, চাকরীর ক্ষেত্রে আপনি সহপাঠিদের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে থাকবেন। একটা বিজনেস শুরু করা প্রমাণ করে, আপনি অনেক প্রো-একটিভ, ক্রিয়েটিভ এবং সাহসী- যেইগুণগুলো একজন ইমপ্লয়ীর মাঝে খুজে পেতে চায় সফল কোম্পানীগুলো। উদ্যোক্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা চাকরীতে ভালো পারফরমেন্স করার ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখবে।

তো আর দেরী কেন, ভাই-বোনেরা। ঝাপিয়ে পড়ুন ব্যবসায়। এখন যৌবন যার, ব্যবসা করার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

জ্ঞানী লোকের জ্ঞানী কথা

“আল্লাহপাক কুরআনে ব্যবসার কথা বলেছেন, বলেছেন, ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি’। আর কোন প্রফেশনের কথা বলেননি, বলেছেন ব্যবসার কথা। ব্যবসার মধ্যে যদি কল্যাণকর কিছু না থাকতো, তবে তিনি ব্যবসার কথা এভাবে বলতেন না!”

– প্রফেসর কামরুল আরেফিন, আইবিএ-জেইউ

গতকাল ক্লাস নিতে গিয়ে আরেফিন স্যারের সংস্পর্শে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল কিছুটা সময়। ইনিই তিনি যিনি ২০১০-১২ সালের দিকে ক্লাসে দেশের ইকোনমি নিয়ে যে ফোরকাষ্টগুলো করেছিলেন, ৪-৫ বছর পর ঠিক তাই তাই হতে দেখেছি। স্যারের সাথে কাটানো সময়ের সদ্ব্যবহারের সেই সুযোগ তাই হেলায় হারাতে চাই নি। দেশের চলমান ইকোনমিক মন্দা অবস্থা নিয়ে স্যারের মতামত ও দিক নির্দেশনা জানার চেষ্টা করেছি। স্যার বরাবরই অপটিমিষ্টিক লোক, এবারও তিনি খুব বেশি হতাশার কথা শোনালেন না। স্যারের কিছু অবসারভেশন তুলে ধরছিঃ

1. বাংলাদেশ সারাবিশ্ব জুড়েই চলমান মন্দা অবস্থার স্বীকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যে দেশগুলোতে পণ্য যায়, ভারত, ইউএসএ- তারা নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে মন্দা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সেখানে চলছে পলিটিকাল অস্থিরতা। মন্দা অবস্থার পাশাপাশি এরকম পলিটিকাল আনরেষ্টের সময় মানুষজন টাকা বের করতে চায় না, একারণে ইকোনমি একটু প্রেশারে আছে। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও খাটে।

2. সরকার একসাথে অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টে হাত দিয়েছে যেগুলোর কাজ এই সময়ে শেষ হবার কথা ছিল, হয় নি, আরও টাকা লাগছে। একারণে লিকুইড ক্রাইসিসে আছে। এটারও একটা প্রভাব পড়ছে ইকোনমিতে।

3. আমি দেশ থেকে টাকা বের হয়ে যাবার কথা বললাম, স্যার এক্ষেত্রেও খুব বেশী হতাশার বাণী শোনালেন না। বললেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখনও আসলে ফরেন মার্কেটে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট মরার মতো ক্যাপাবল হয়ে উঠে নি! কিছু টাকা চলে যাচ্ছে বাড়িঘর কেনার জন্য। আমাদের যেমন স্বপ্ন থাকে ঢাকার বুকে একটা বাড়ির, কিছু লোক নিউইয়র্কে বাড়ি করার স্বপ্ন লালন করে। গভমেন্ট ফরেন রেমিট্যান্স আসলে স্ট্রেটওয়ে ২% ক্যাশ বোনাস দিচ্ছে, এছাড়াও কেউ লোকাল কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে যে সুযোগ সুবিধা পাবে, ফরেন কারেন্সিতে ইনভেস্ট করলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি সুবিধা পাচ্ছে। স্যার রেটোরিকালি বললেন, আমার যদি এই মুহূর্তে টাকা এবং সুযোগ-সুবিধা থাকতো, তাহলে আমিই তো টাকা পাঠিয়ে সেটা আবার ফরেন কারেন্সি হিসেবে দেশে আনতাম।

4. স্যার দেশের ইকোনমির চেয়ে বরং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তাঁর আশঙ্কা, আমরা না আবার নিজ দেশে পরবাসী হয়ে যাই, পড়াশোনা ও স্কিলে পিছিয়ে পড়ার কারণে। গার্মেন্টসগুলোতে ইতোমধ্যে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- টপ লেভেলে সব ফরেইনাররা আর লোয়ার এন্ডে সব বাঙ্গালী।

5. ইকোনমি নিয়ে খুব বেশি কনসার্ন না হয়ে নিজ বিজনেসে ফোকাস করার জন্য তাগাদা দিলেন স্যার। বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনে মনোযোগ দিতে বললেন। বড়মাছরা সব মাঠে নেমেছে, ছোট হয়ে টিকে থাকতে হলে বিজনেস এক্সিলেন্স ও ডাইভারসিফিকেশনের কোন বিকল্প নেই।

বিজনেস করছি জেনে স্যার খুব খুশি হলেন এবং মনে দাগ কাটার মতো কিছু কথা বললেন, যার মধ্যে একটি প্রথমেই উল্লেখ করেছি। দেশের ইকোনমির অশনিসংকেত, ব্যবসার মন্দাবস্থা, ব্যবসায়ীদের হাহাকারের মাঝে স্যারের সাথে কাটানো সময়টি ছিল সত্যিকারের আশাজাগানিয়া কিছু মূহুর্ত। দুআ করি স্যারের এই প্রেডিকশন যেন সত্যি হয়, অন্ধকার টানেলের ওই প্রান্তে আলোর দেখা যেন সহসাই চোখে পড়ে।

** ইকোনমি নিয়ে স্যারের প্রেডিকশনগুলো একান্তই তাঁর ব্যাক্তিগত মতামত, যেগুলো নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ সবসময়ই আছে।

Categories
রিভিউ

সুজন ভাইয়ের মধু

সেদিন জিমে ব্যায়াম করছিলাম। হঠাৎ হই-হট্টগোল শুনে দেখি আমাদের ইন্সট্রাক্টর স্বপন ভাই একটা ভিডিও দেখছেন। ভিডিওর গলাটা পরিচিত মনে হওয়াতে এগিয়ে যেতেই স্বপন ভাই বললেন, ‘দেখেন দেখেন কিভাবে সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করে’। যা ধারণা করেছিলাম তাই, তাসমানের Lutfar Rahman Sujon ভাই এর ভিডিও। ওনার ভিডিও পপুলার, তাই বলে এতো পপুলার জানতাম না। আননোন একটা পেজ থেকে ওনার ভিডিও কপি করে আপলোড করেছে, সেখানেও হাজার হাজার ভিউ। আমিও স্বপন ভাইয়ের সামনে খুব পার্ট নিয়ে বললাম, আরেহ, উনিতো আমার খুব কাছের লোক। স্বপন ভাই বললেন, এই মধু কি ভালো হবে? বললাম উনি যেমন লোক খারাপ হবার প্রশ্নই আসে না। তারপর অনুরোধ, আমাকে এই মধু এনে দেন না। আমিও সওয়াব কামানোর সুযোগ হাতছাড়া করলাম না।

সুন্দরবনের এই অসাধারণ মধু নিজে না চেখে আরেকজনকে দিয়ে দিবো, ভাবতেই কষ্ট লাগছিলো। কিন্তু সুজন ভাইও চালাক মানুষ। উনিও সওয়াব কামানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন নি। আমার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন এক বোতল মধু, হাদিয়া। এতো স্বাদের, এতো ঘন মধু কমই পেয়েছি। সুজন ভাইয়ের ব্রান্ড তাসমান মধুর অনন্য বৈশিষ্ট হলো উনি নিজে সরাসরি সুন্দরবনে চলে যান মৌয়াল টিম নিয়ে, যার প্রমাণ পাবেন ওনার ভিডিওগুলোতে।

ভেজালের কারণে একটা সময় মধু খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম বললেই চলে। সুজন ভাইদের মতো মানুষদের এই পেশায় আশার কারণে অসাধারণ এই খাবারটির পূর্ণ রস আস্বাদন করতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ, এই ভাইদের চেষ্টায় বারাকাহ দান করুন, আমিন।

Categories
চ্যারিটি

Blanket With Love

রংপুরের এক ছোটভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল কম্বলের ব্যাপারে। তার অবসারভেশন হলো, শীতকালে রংপুরে রাতে রাস্তায় ঘুমানো মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। অনেকেই রাস্তায় ঘুমানো মানুষদের কম্বল দেয়, এজন্যই হয়তো।

আমি তাকে বললাম, তুমি কি কখনো রাস্তায় এভাবে এই প্রচন্ড ঠান্ডায় ঘুমাতে পারবা? সে বললো, কক্ষনো না। তোমার কম্বলের দরকার নাই এজন্যই তুমি পারবা না, দরকার থাকলে ঠিকই পারতা একটা চট গায়ে দিয়ে ঘুমাতে এই ভয়ঙ্কর ঠান্ডাতেও। যাদের কম্বলের দরকার তারাই এভাবে ঘুমাতে পারে রাস্তায়। কারও হয়তো কম দরকার, কারও হয়তো বেশী, কিন্তু দরকার সবারই আছে।

সবাই চাই, যাতে আমাদের দেয়া দানগুলো যেন সঠিক লোকের হাতে পৌছে। কিন্তু এটা করতে যেয়ে অতি সাবধানতার কারণে আসল দু:স্থ লোকগুলোও যেন বাদ না পড়ে। শয়তানের অনেকগুলো চক্রান্তের মধ্যে এটাও হচ্ছে আপনার মনে বিভিন্ন ধারণা ঢুকিয়ে দিয়ে আসল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। কিন্তু এতে আল্টিমেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আপনি।

মনে রাখবেন, আপনি যাকে দান করছেন, আল্লাহ আপনাকে দিয়ে তার চাহিদা পূরণ করিয়ে নিচ্ছেন। আপনি না হলেও অন্য কাউকে দিয়ে আল্লাহ তার চাহিদা ঠিকই পূরণ করতেন। বেশী হিসেব নিকেশ করে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে নিজেই বঞ্চিত হবেন।

আপনার দান অপাত্রে পড়লেও আপনার নেক নিয়্যতের কারণে আপনিতো সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেননা!

তাই আসুন, হাত খুলে দান করুন। আপনার আশেপাশেই অসংখ্য অভাবী-দু:স্থ মানুষ রয়েছে, শীতে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এনাদের কষ্ট দূর করার মাধ্যমে আপনার কিয়ামতের কষ্ট দূর করার অপুর্ব সুযোগ গ্রহণ করুন।

হাদিসে এসেছে, দুনিয়াতে কেউ যদি কোন মুসলমানের একটা কষ্ট দূর করে, তাহলে আল্লাহপাক কিয়ামতের দিনের কষ্টগুলো থেকে তার একটি কষ্ট দূর করে দিবেন।

কত অপূর্ব এ সুযোগ! সেদিন আসার আগেই প্রস্তুত হোন, যেদিন আর কোন আ’মল কাজে লাগবে না!

Categories
ধর্ম

কুয়েটের র‌্যাগডে ও শাহবাগীদের গাত্রদাহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন অর্থাৎ র‍্যাগ ডে টা সবাই একটু উদযাপন করতে চায়। কুয়েটের সিইসি-১৫ ব্যাচের ছাত্ররাও চেয়েছিল ব্যতিক্রমী কিছু করে তাদের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে। কুয়েটকে অনেকেই ভুলভাবে কুয়েত উচ্চারণ করে, এটাকেই স্যাটায়ার করে সবাই মিলে কুয়েতি তথা আরবদের মতো করে জুব্বা ও শিমাঘ পড়ে উৎযাপন করেছে। এই আয়োজনে মেয়েরাও যেমন ছিল, তেমনি থাকার কথা হিন্দু স্টুডেন্টদেরও। এটা যে তারা আউট অফ রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট থেকে করেছে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়, নিছক ফান-ই উদ্দেশ্য, ছবিগুলো দেখলেই যেকারও বুঝে আসার কথা। কিন্তু এতে বাঙ্গালিত্বে আঘাত লেগেছে স্যুট, প্যান্ট, টাই পড়া কিছু বিলিতি সেক্যুলার বাঙ্গালীর।

পোস্ট গুলো ঘাটতে যেয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের আরও কিছু ছবি নজরে পড়লো! কেউ সেজেছে ভারতের তামিল ছবির নায়কের পোষাকে, কেউবা হাজার বছরের (!) বাঙ্গালী পোষাক লুঙ্গিতে (যদিও বিসিএসের প্রস্তুতি পর্বে শিখেছি লুঙ্গি একটি বার্মিজ শব্দ)। এই সবগুলো ‘চেতনা ফিল্টার’ উত্তীর্ণ হলেও আটকে গেছে সিএসই-১৫ ব্যাচ। কেউবা এখানে খুজে পেয়েছে বাঙ্গালিত্বের অভাব, কেউ সুশিক্ষার অভাব, কেউবা খুজে পেয়েছে আইএস কানেকশন।

আরব মরুভূমির দেশ। এখানকার প্রখর রোদ এবং ধুলাবালু থেকে বাচার জন্য জুব্বা খুবই আরামদায়ক একটি পোষাক, সেই সাথে রয়েছে পাগড়ি। নবীজী (সা.) এই জায়গাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই তিনিও এই পোষাক পড়েছেন। আমরাও নবীজী (সা.) এর প্রতি ভালোবাসা থেকে এই পোষাক পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই পোষাককে কিন্তু অপরিহার্য করে দেয়া হয় নি। নবীজী (সা.) এর উম্মাত যেমন আরবের মরুভূমির বুকে রয়েছে তেমনি এন্টার্কটিকার তীব্র শীতের দেশেও বাস করে। ইসলামে তাই কোন নির্দিষ্ট পোষাক সেট না করে পোষাকের ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়া হয়েছে, যেমনঃ ঢিলেঢালা পোষাক পড়তে হবে, অন্য ধর্মের প্রতীক হতে পারবে না, ছেলেরা মেয়েদের, মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পড়তে পারবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই নীতিমালাগুলো মেনে স্যুট প্যান্ট পড়েও যেমন ইসলামি পোষাক মেইনটেইন করা সম্ভব তেমনি জুব্বা পড়েও তা অনেক সময় অনৈসলামিক হয়ে যায় (অনেকেরই জুব্বা টাখনুর নীচে ঝুলতে দেখা যায়)।

তাই বোঝা যায়, জুব্বা, শিমাঘ ইসলামের কোন সলো পোষাক না। কিন্তু তারপরও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ এই ইসলামোফোব ক্রিয়েচারগুলার কতটা ভয়ংকর হলে কিছু বাচ্চা পোলাপানের একটা নির্দোষ বিনোদনেও এরা বাধা হয়ে দাড়ায়। এতো ঘৃণা নিয়ে, এতো বিদ্বেষ নিয়ে এরা কিভাবে ঘুমায় আল্লাহু আ’লাম। চারদিকে ক্রমবর্ধমান হুজুরায়নের কারণে এদের সৃষ্ট গাত্রদাহ ও মানসিক অশান্তি আল্লাহর তরফ থেকে দুনিয়াতেই এদের জন্য প্রেরিত আজাব। এই আজাবেই এরা জ্বলে পুড়ে মরুক। আমিন

Categories
রিভিউ

শান্তু ভাইয়ের আই ক্লিক বাজার

আগে কোন জিনিস বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস জিনিস কিনলে দোকানদার জিজ্ঞেস করতো, এক নম্বর নিবেন না দুই নম্বর। কিন্তু এখন এই দুই নম্বরেরই যে কত নম্বর বের হয়েছে দোকানদার বেচারা নিজেও বলতে পারে না। বাধ্য হয়ে এখন সব জিনিসকেই ‘একের মাল’ বলে চালিয়ে দেয়ার চল শুরু হয়েছে।

আমার কাছে মনে হয় এখন ইলেকট্রনিকস জিনিস কিনলে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। অনলাইন থেকে কিনলেও শান্তি নাই। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে গ্যাজেট কিনতে গেলে মোবাইলের বদলে আলু, পেয়াজ (দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন উল্টোটা হবারও চান্স আছে, পেয়াজ অর্ডার করলেন, মোবাইল পাঠায় দিয়ে ধাপ্পা দিলো) পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। বিশাল ক্যাশব্যাকে পানির দরে গ্যাজেট কিনলে রয়েছে অচল, স্টক-লটের রদ্দি মাল পাওয়ার সম্ভাবনা!

সব মিলিয়ে গ্যাজেট কেনা এখন কঠিনতম কাজগুলোর একটি। তবে Hasan Shariful Islam Shantu ভাই I click Bazar এর মাধ্যমে এই কাজটা কিছুটা সহজ করে দিয়েছেন। যেকোন গ্যাজেট দরকার হলে প্রথম কাজ হলো শান্তু ভাইকে ফোন দেয়া, ভাই এইটা লাগবে। উনি দিতে না পারলে দেন অন্য জায়গায় খোজ নেয়া। ভাইয়ের বিশেষত্ব হলো উনি কয়েকদিন পর পর নিজে চলে যান চায়নায় এবং সরাসরি নিজে যাচাই বাছাই করে নিয়ে আসেন সত্যিকারের ‘একের মাল’। ওনার রয়েছে অত্যাধুনিক সব গ্যাজেটের বিপুল কালেকশন। মিরপুর ডিওএইচএসে ওনার অফিস অথবা মোতালেব প্লাজায় ওনার শোরুমে গেলে যুগের চেয়ে এগিয়ে যাওয়া যায় প্রায় ছয়মাস। মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো সব টেকনোলজিতে ঠাসা।

গ্যাজেটের জন্য আমার মতো আপনারও হতে পারে শান্তু ভাই আশা ভরসার স্থল। নিশ্চিন্তে তার কাছ থেকে কিনতে পারেন গ্যাজেট। আশা করি ঠকবেন না।

ছবিতে তার কাছ থেকে সদ্য কেনা একটি পাওয়ার ব্যাংক ও একজোড়া কর্ডলেস হেডফোন। আল্লাহ ভাইয়ের ব্যবসায় বারাকাহ দান করুন।

Categories
ধর্ম

গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব

মফস্বলে বেড়ে ওঠা ছেলে আমি। ছোটবেলায় ডিসেম্বর আর জানুয়ারি মাসটা ছিল যেন স্বপ্নের মতো দুটো মাস। এই দুই মাসেই ঘটত মজার মজার সব কান্ড- ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, নানুর বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া, রাতের বেলা ব্যাডমিন্টন, রমাদানের ঈদ, মহল্লায় বন্ধুদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি চাল-ডাল উঠিয়ে মা-খালাদের পুরাতন শাড়ি দিয়ে প্যান্ডেল বানিয়ে পিকনিক, নতুন ক্লাসের নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, স্কুলের ঢিলেঢালা ক্লাস, বাংলা বইয়ের গল্পগুলোর উত্তেজনা, পিঠেপুলি আর আর অবশ্যই অবশ্যই ওয়াজ মাহফিল। শবে বরাত, শবে ক্বদরের মতো আর একটা রাতই বাড়ির বাইরে ইচ্ছেমতো কাটানোর এক্সেস ছিল, সেটা এই ওয়াজ মাহফিলের রাতগুলোয়। বয়ান ওতো বুঝতাম না, মূল আকর্ষণ ছিলো, প্যান্ডেলের বাইরে হরেক রকম ভাজাপোড়া, মিঠেমন্ডা আর বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো।

মাইকের যথেচ্ছা ব্যবহার, বক্তাদের অসামাঞ্জস্য বক্তব্য, গভির রাত পর্যন্ত চলা কথামালা, অতিরিক্ত বানিজ্যিকীকরণ- এরকম অনেক অভিযোগ উঠলেও স্টিল এই ওয়াজ মাহফিলগুলোই অধিকাংশ মানুষের ধর্মীয় কথা শোনার অনেক সময় একমাত্র সোর্স। এছাড়াও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বুষ্ট করার জন্যও ওযাজ মাহফিলের রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। নীচে গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ওয়াজ মাহফিল নিযে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ ও কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরা হলো।

১। যতই হাস্যকর, যতই আজগুবি উপাদান থাকুক স্টিল বাংলা সিনেমার দর্শকই কিন্তু দেশে সবচেয়ে বেশি। একসময় শুনেছিলাম, মাই টিভির টিআরপি নাকি সবচেয়ে বেশি, কারণ ওখানে সারাদিন বাংলা ছবি চালানো হয়। আপনার কাছে যতই জোকারি মনে হোক, সস্তা কৌতুক মনে হোক, গালগল্প মনে হোক, অসামাঞ্জস্য কথামালা মনে হোক, এইকথাগুলোই কিন্তু গ্রামের মানুষগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো গভীর রাত পর্যন্ত শুনে থাকে ওয়াজ মাহফিলে। এভাবেই বছর পর বছর ধরে ওয়াজ মাহফিল গুলো চলে আসছে। এখন সমস্যা হয়েছে ভিডিওর সহজলভ্যতার কারণে নীলফামারীর গহীন কোন এক গ্রামের মানুষদের সামনে করা ওয়াজ মাহফিলের ভিডিও-ও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই তা আপনার ভাষাজ্ঞান, সাহিত্যজ্ঞানের সাথে কম্প্যাটিবল হচ্ছে না। এ নিয়ে হাসিতামাশা, মশকরা, রাজনীতি করার কিছু নেই। তাদের টিজি আপনি নন। সব মাহফিল কি আপনার দেখতে হবে, সবগুলো নিয়ে সমালোচনা করতে হবে, ছেড়ে দেন না কিছু গ্রামের মানুষের জন্য।

২। ২-৩ ঘন্টার একটি লেকচারে একটানা ধর্মের কথা বললে স্বাভাবিকভাবেই একঘেয়েমি চলে আসে। তখন একটু ডাইনে-বামে বলতে হয়। এখন বলতে পারেন ২-৩ ঘন্টা লেকচার দেয়ার দরকার কি, তখন আবার আয়োজকরা মাইন্ড করে। এতো টাকা দিয়ে আনলাম হুজুর মাত্র এক ঘন্টা ওয়াজ করেই ফুটলো। এতো দীর্ঘ সময় কথা বললে কিছু হাসিতামাশা করতেই হয়, ভুলভাল হওয়া স্বাভাবিক, আমাদের নিজেদেরও তো হয়, । ইউটিউব বা ফেসবুকের খন্ডিত ক্লিপ বা রোষ্টিং ভিডিও দেখে হুজুরদের পচানোর কিছু নেই। শরীয়াহর বিরুদ্ধে না গেলে এসব নির্দোষ কৌতুকে দোষের কিছু নেই। গ্রামের লোক এগুলোতেই মজা পায়।

৩। গ্রামের মানুষজন সারাদিন কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকে। শীতকালে মাগরীবের পরপরই ঈশার ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। তাই কোন বক্তার নিবরচ্ছিন্ন ওয়াজ করার একমাত্র অপশন হলো ঈশার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এইসময়ই বেশি লোকসমাগম হয়। আমি দিনে অনেক ওয়াজ মাহফিল দেখেছি, মাছি মারার লোকও পাওয়া যায় না। কে চায় তাদের প্রোগ্রামটিকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করতে।

৪। গ্রামের প্রায় শতভাগ মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পুরুষেরা তা-ও সপ্তাহান্তে জুমার সালাতে কিছু ঈমানী কথা শোনার সুযোগ পায়, কিন্তু মহিলাদের এরকম সুযোগ নেই বললেই চলে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলেই মহিলাদের জন্য ওয়াজ শোনার ব্যবস্থা থাকে। ধরা যায়, এই ওয়াজ মাহফিলগুলোই মহিলাদের ঈমানী কথা শোনার একমাত্র সোর্স। কোন গ্রামে ওয়াজ মাহফিল হলে ওই গ্রামে থাকা লোকজনের বাড়িতে ওই কয়দিন আত্মীয়দের আনাগোণা শূরু হয়। দূরদুরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন বিশেষ করে মহিলারা বেড়াতে আসে ওয়াজ মাহফিল শোনার জন্য । এধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

৫। অধিকাংশ ওয়াজ মাহফিলের উদ্যোক্তা সাধারণত ইয়াতিমখানা বা মাদ্রাসা গুলো হয়ে থাকে। মাহফিলকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাগুলোয় এককালীন একটা বড় ফান্ড কালেক্ট হয় বা বড় কোন কাজ (যেমন: বিল্ডিং বা ওযু খানা) এর এন্তেজাম হয়। যদি এরকম কিছু না-ও অর্জন হয় এট লিষ্ট প্রচার প্রচারণা হয়। অধিকাংশ মাদ্রাসা থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। এই মাহফিল গুলোর কারণে মানুষজন তাদের অস্তিত্বের জানান পায়।

৬। শুধু মাদ্রাসাগুলোই নয় ওয়াজ মাহফিলের দিনগুলোতে পুরো গ্রামের অর্থনীতি-ও সামগ্রিকভাবে বুষ্ট আপ হয়। ছোট ছোট ব্যবসাগুলোর ফ্লাশ সেলের সুযোগ এনে দেয় এই মাহফিলগুলো। কিছু কিছু ব্যবসায়ই তৈরী হয় মাহফিলগুলোকে কেন্দ্র করে। মাহফিল যেখানে ব্যবসা সেখানে।

৭। শহরে প্যান্ডেলের বাইরে মাইক ব্যবহারের ঘোর বিরোধি হলেও গ্রামে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ড থাকে মাইক দূর-দূরান্তে বসানোর। বিশেষ করে বেশি মাইক থাকলে মহিলারা ঘরে বসেই ওয়াজ শুনতে পারে। বিষয়টি গ্রামের মানুষদের পরামর্শের উপর ছেড়ে দেয়া যেতে পারে।

৮। বাকি থাকলো বক্তাদের অর্থদাবীর বিষয়টি। ভাইরে এটা মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগ। হুজুররাও কি এর বাইরে। যে বেশি মাহফিল জমাতে পারে, যে বেশি জনপ্রিয়, যার বক্তব্য শুনতে শ্রোতারা দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসে তার ডিমান্ড বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রায় তিন চার মাস আগে শুনেছি, এই সিজনে আজহারী হুজুরের শিডিউল নাকি ফুল প্যাক্ড। মানে নতুন করে তাকে বুক করার কোন সুযোগ নেই। নেক্সট ইয়ারের জন্য বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। এখন আজহারী হুজুরের ডিমান্ড অন্যদের মতো হবে না এটাই স্বাভাবিক। হুজুরদেরকে এই পরিমাণ অর্থ দিয়েও কিন্তু অর্গানাইজাররা লাভের মধ্যে থাকে। এটা তাদের মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর বিষয়।

মুসলিম অধ্যুষিত এই ভূখন্ডে ইসলামের অগ্রযাত্রাকে স্তমিত করার জন্য সর্বব্যাপি প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। যত্রতত্র যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা এই মানহীন মাদ্রাসাগুলো, গ্রামে-গঞ্জে গভীর রাতে চলা এই ওয়াজ মাহফিলগুলোই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে ইসলামের আলোকে নিভু নিভু জ্বালিয়ে রেখেছে। বক্তাদের শরীয়তবিরোধি কথা নিয়ে বিরোধিতা হতে পারে, চাপাবাজি, মিথ্যাচার নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, মাইকের যথেচ্ছা ব্যবহার নিয়ে নসিহাহ দেয়া যেতে পারে, কিন্তু ঢালাওভাবে ওয়াজ মাহফিলের বিরুদ্ধে, বক্তাদের বিরুদ্ধে, সর্বোপরি মাহফিলগুলো বন্ধের বিষয়ে ইসলামবিরোধিদের যে প্রচারণা, প্রচেষ্টা, সেই চেষ্টার গুড়ে বালি ঢেলে দিতে হবে। মাহফিলের আয়োজক ও বক্তাদেরও যৌক্তিক সমালোচনা বিবেচনায় নিয়ে সে অনুযায়ি পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে করে মাহফিলের উপর কেউ আঘাত হানতে না পারে। বেঁচে থাকুক এই মাহফিলগুলো, আল্লাহর ওয়াদা- ইসলামের নূরকে পূর্ণরুপে প্রজ্জ্বলিত করবেন, সেই ওয়াদার পেছনে উৎস হিসেবে কাজ করুক, মাহফিলগুলো। আমিন।

Categories
ব্যবসা ও অর্থনীতি

৮ টি কারণ, কেন ছাত্রাবস্থায় ব্যবসা শুরু করা উচিত! (ভিডিও)

একজন স্টুডেন্ড অন্ট্রাপ্রেনার বিভিন্ন দিক দিয়ে রেগুলার অন্ট্রাপ্রেনারদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। কি কি সেই সুবিধা, কি কি সেই কারণ। সেগুলোই ভিডিওতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

Categories
রিভিউ

ইবাদাহের পিনাট বাটার

যারা রাত জাগা পাখি, তাদের মেদভুড়ির জন্য অন্যতম দায়ী ‘মিডনাইট স্নাক্স’গুলো। গভীর রাতে ফ্রিজ খুলে মিষ্টি, চানাচুর, জ্যাম, জেলি, ব্রেড- এইগুলো মুখের জন্য খুব স্বাদের হলেও ভূড়ির জন্য খুব খারাপ। তবে এইগুলোর মধ্যে একটা ভালো স্নাক্স আছে, পিনাট বাটার। খুবই মজার এই পিনাট বাটার পেটের জন্যও ভালো জিহবার জন্যও ভালো। এখনতো কিটোর হাইপ চলছে, যারা কিটো করছেন, তাদের জন্য পিনাট বাটার খুবই রিকমেন্ডেড একটি খাবার।

তবে অসুবিধা হলো এই পিনাট বাটারগুলোর দাম অনেক বেশী। বাজারে পাওয়া বাটারগুলোর সবগুলোই ইম্পোর্টেড। বিদেশী জিনিসের দাম বেশী হবে এটাই স্বাভাবিক। আশার কথা হলো আমাদেরই পরিচিত ভাইরা এই বাটার বানানোর ট্রাই করছে, এবং ইতোমধ্যে বাজারে এনে ফেলেছে। একটা ফোন দিলেই একদম বাসায় পৌছে দিবে। বলছিলাম ইবাদাহ’র কথা। (লিংক কমেন্টে) বেশ কিছুদিন ধরে তারা এরকম এক্সপেরিমেন্টাল ফুড নিয়ে কাজ করছে। তাদের রসুনের আচারটা আমার খুবই প্রিয়। এবার তারা আনলো পিনাট বাটার। তাদের অন্যান্য প্রোডাক্টের মতো এই পিনাট বাটারও আপনার মন ভরিয়ে দিবে, আশা করা যায়।