মাথা ন্যাড়ার ফতোয়া ও মুসলিম প্রোডাক্টিভিটি

Matha Nera
Share This:

দাবা খেলা জায়েজ কিনা দুইদিন আগে একটু ঘাটাঘাটি করলাম। অনেক গুলো মত পেলাম, একদল আলেম ডিরেক্ট হারাম বলেছেন, কেউ কেউ মাকরুহ। ঘাটতে যেয়ে ড. ইসরার আহমেদের একটা ছোট্ট ভিডিও পেলাম, উনি হালাল হারাম কোনকিছুই বলেন নি, কিন্তু উত্তরটা খুবই চমৎকার লেগেছে! প্রশ্নকর্তাকে উনি বললেন, দেখো বেটা এটা হালাল কি হারাম আমি সেইদিকে যাবো না, কিন্তু কথা হলো একজন মুসলিমের কি এইসব অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করার মতো সময় আছে?! মুসলিমের জন্য রয়েছে অনন্তকালের আখিরাত, এবং সেটি পাওয়ার শস্যক্ষেত্র হলো দুনিয়া। এই দুনিয়ার প্রতিটি মুহুর্ত হলো গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়গুলোর গুরুত্ব যদি কেউ বুঝতো তাহলে এইসব অনর্থক কাজে কেউ এক বিন্দু সময়ও নষ্ট করতো না। উর্দু বুঝলে ইউটিউবে Chess and games in islam- Dr. Israr Ahmed লিখে সার্চ দিয়েন। অন্তরে দাগ কাটবে। খুবই দরদভরা গলা।

এই উত্তরটা আমাকে বিল্লাল ফিলিপসের সেই অমর বানীটি মনে করিয়ে দিলো, “একজন মুসলিম যদি জানতো তার কতো কাজ বাকি, তাহলে তার উইকএন্ড, ছুটি, টাইমপাস বলে কিছু থাকতো না”।

আমাদের দাঈ, আলেম ওলামা যারা রয়েছেন তারা যদি ইসলামের এই এসেন্সটা শেখানোর উপর জোর দিতেন তাহলে আপনাদের অনেক কাজ সহজ হয়ে যেত। দুইদিন পর পর বিভিন্ন ট্রেন্ডে আপনাদের হালাল হারামের ফতোয়া নিয়ে হাজির হতে হতো না। কে ফেস এ্যাপ ইউস করলো না মাথা ন্যাড়া করলো সেখানে যেয়ে যেয়ে ফতোয়া পোষ্ট করতে হতো না।

এইসব ট্রেন্ডি ইস্যুতে হালাল হারামের বাইরে অনেক গ্রে জোন আছে, যেমন এই মাথা ন্যাড়ার ইস্যুটাই ধরি,আমি নিজে ন্যাড়া করেছি। একমাস ধরে সেলুন বন্ধ, বাইরে যাওয়া বন্ধ, বাসায় ট্রিমার দিয়ে কাটতে যেয়ে দেখি ব্যাড়া ছ্যাড়া অবস্থা, বাধ্য হয়ে ফেলে দিলাম। ফেলে দিয়ে দেখলাম খুব ভালো হয়েছে, মাথায় খুশকি হয়ে খাবলা খাবলা হয়ে গিয়েছিল। এই সুযোগে মাথার স্কিনটাও মেরামত হলো, চুল কাটারও ঝক্কি থাকলো না। আমার কাছে মনে হয়েছে অধিকাংশই এই দুই কারণে ন্যাড়া করছে, এক চুল কাটানোর ঝামেলা, দুই স্কিন প্রবলেম। এখন আমার কাছে যখন এই মাথা ন্যাড়ার ফতোয়া হাজির হয়, স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়। আরেকদল আছে, যারা হুজুগে করতেছে, এদের কাছে এইসব ফতোয়া মূল্যহীন। আর কেউই হারাম কিছু করতেছে না। আপনাদের কাছে কেনো মনে হচ্ছে, মানুষ মহামারী থেকে বাচার জন্য হতাশ হয়ে চুল ফেলে দিচ্ছে!

এরচেয়ে মানুষকে ইসলামের এসেন্স শেখানোর দিকে গুরুত্ব দিন, আপনাদের অনেক কাজ সহজ হবে। ট্রেন্ড বাই ট্রেন্ড ফতোয়া ইস্যু না করে মানুষকে তার সময়ের মূল্য সম্বন্ধে সচেতন করুন, তাকে শেখান তার কত কিছু করার বাকি আছে? খেলাধুলা হালাল কি হারাম, ফেসএ্যাপ কি ইউস করা যাবে কিনা, মিউজিক করা যাবে কিনা- সে নিজেই বুঝে যাবে! আপনারই বা এতো সময় কোথায় এইসব ট্রেন্ডের পেছনে ছোটার, সেটার ইসলামিক ব্যবচ্ছেদ করার। আমাদের কেন প্রতিটা ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে, প্রতিক্রিয়াশীল গালি খেতে হবে। সময় পাল্টেছে, ক্রিয়াশীল হোন, কাজ করুন, অগ্রগামী হোন, অপজিশনকে প্রতিক্রিয়াশীল বানান। তারা চেয়ে চেয়ে দেখুক মুসলিমদের কর্মকান্ড। অনেক কাজ বাকি ভাইয়েরা। এই সময়ের মূল্য দিন।

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *