করোনাত্তোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ইসলামী সমাধান

Economic Crisis of Corona
Share This:

২০০৮-০৯ সালের দিকের কথা। ইউএস ইকোনমিতে চলছে রেসেশন। সেসময় একটা প্ল্যাকার্ডের কথা এখনো মনে আছে- একটা শপিং মলের বাইরে লেখা ছিল, “Please buy a shirt and save the economy”. যতোই QE করেন, প্যাকেজ ঘোষণা দেন, ইকোনমিকে বাচাতে হলে নাগরিকদের খরচ করার কোন বিকল্প নেই। টাকা রোলিং করতে হবে, যত খরচ হবে, টাকার যত হাতবদল হবে, টাকার মান তত বাড়তে থাকবে।

আমাদেরই জীবদ্দশায় আরও একটি রেসেশন হাজির প্রায় এবং আরও বড় আকারে, পুরো বিশ্ব আক্রান্ত হতে যাচ্ছে। দুঃচিন্তায় বেচারা জার্মান এফএম তো সুইসাইডই করে ফেললো! ০৮-০৯ এ আমরা বেঁচে গেছিলাম, এবার যে কি অবস্থা হয়, আল্লাহই জানেন। এ্যামেরিকা, কানাডা তার নাগরিকদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করে দিয়েছে। আমাদের ঘটে তো সেই ভাগ্য নেই। লক ডাউন খুললে সবার প্রথম কাজ হবে খরচ করা, প্রচুর খরচ করা। যত বেশি খরচ করবেন তত বেশি কনট্রিবিউশন হবে ইকোনমিতে। নিজের জন্য খরচ করুন, অন্যের জন্য খরচ করুন, প্রয়োজনে খরচ করুন, অপ্রয়োজনে খরচ করুন। খরচ করুন, ইকোনমিকে বাঁচান। সঞ্চয় করার সময় নয় এটা।

আমরা হুজুররাতো সব জায়গায় ইসলাম টেনে আনি। কি করবো, সব সমস্যার প্রোপার সলুশন তো ইসলামেই পাওয়া যায়। এই যে লক ডাউন চলতেছে, কই পাইলেন? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাহিসসালাম ১৪০০ বছর আগে বলছেন মহামারী এলাকা থেকে কেউ বেরও হবা না, ওইখানে কেউ যাবাও না। আপনারাই পাকনামি করে আলগা দরদ দেখাইতে যায়া রোগ টেনে আনলেন, এখন ১৬ কোটিরে লক ডাউন করে রাখছেন। আরেকদল পাকনা লোকজন আছে, জজবা দেখাইতে যায়া রসূলের নির্দেশ অমান্য করে ধর্মীয় গ্যাদারিং করছে, এখন বুজুক ঠ্যালা। করোনাও সামলাও, মামলাও সামলাও।

যাইহোক অন্য লাইনে চলে যাচ্ছি। খরচ করার ব্যাপারে তিনটি হাদিস দিয়ে দিলাম। এখানে খরচ করাকে যদি সদাকা অর্থেও নেন, আরেক হাদিস থেকে সাব্যস্ত হয়, নিজের পরিবারের জন্য খরচ করাও সদাকা। অতএব অন্যের জন্য না হলেও এই হাদিসগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের পরিবারের জন্য হলেও খরচ করুন।

“একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বেলাল (রাঃ) এর নিকট গেলেন , তাঁহার নিকট খেজুরের একটি স্তূপ রাখা ছিল । হুযুর (সাঃ) বলিলেন, ইহা কি ? তিনি বললেন , ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য রাখিয়ে দিয়াছি । এই কথা শুনে নবীজি (সাঃ) বললেন , হে বেলাল, তুমি কি ভয় কর না যে , জাহান্নামের আগুনের মধ্যে ইহার ধোঁয়া দেখিতে পাইবে ? খুব খরচ করো এবং আরশের মালিকের নিকট কম হওয়ার ভয় করিও নাহ।”

“হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বলেন , হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেন , প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা আল্লাহ্‌ তায়ালার নিকট দোয়া করেন । একজন দোয়া করেন , ” হে আল্লাহ্‌, খরচকারি ব্যাক্তিকে উহার বিনিময় দান কর। আর একজন দোয়া করেন , ” হে আল্লাহ্‌ , যে ব্যাক্তি জমা করিয়া রাখে , তাহার সম্পদ ধ্বংস কর। “

“হযরত আসমা (রা:) বলেন , হুযুর (সাঃ) আমাকে এরশাদ করিয়াছেন , খুব খরচ কর , গনিয়া গনিয়া রাখিও নাহ ,তাহলে আল্লাহ্‌ তায়ালাও গনিয়া গনিয়া দান করিবেন । জমা করে রেখো নাহ তাহলে আল্লাহ্‌ও তোমাকে না দিয়া জমা করে রাখিবেন । দান করিতে থাক । যত পরিমাণ তোমার দ্বারা সম্ভব হয় ।”

Share This:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *